ইরান-যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধের ৪৭ বছর
চাপেও অটল তেহরান, ব্যর্থতার ঝুঁকিতে ওয়াশিংটন

দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এক ধরনের অব্যাহত স্নায়ুযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা ‘ব্লকেড’ কৌশল ইরানকে কতটা চাপে ফেলতে পেরেছে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক বিশ্লেষণ। প্রশ্ন উঠছে, শেষ পর্যন্ত কি তেহরান নতি স্বীকার করবে, নাকি তাদের দীর্ঘদিনের সহনশীলতা আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে হতাশ করবে?
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কঠোর প্রভাবের মধ্যেও ইরান টিকে থাকার যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা এখন রাজনৈতিক আলোচনায় বিস্ময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, কয়েক দশক ধরে দেশটি অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকটের মধ্যেও রাষ্ট্রীয় অবস্থান বজায় রেখেছে। ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে আট বছরের দীর্ঘ যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটলেও ইরানের নীতিনির্ধারকদের অবস্থান দুর্বল হয়নি। একইভাবে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ বা অস্থিরতা দেখা দিলেও সরকার কঠোর দমননীতির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। এমনকি সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যার হুমকি কিংবা বড় ধরনের হামলার ঘটনাও তাদের অবস্থান বদলাতে পারেনি বলে দাবি করা হয়।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বড় শয়তান’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ইরানের রাষ্ট্রীয় নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সির মতে, ট্রাম্প প্রশাসনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ, যারা মনে করে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে ইরান শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করবে।
ত্রিতা পার্সির ভাষায়, ওয়াশিংটন সবসময় এমন একটি ‘সিলভার বুলেট’ বা নির্দিষ্ট চাপের বিন্দু খুঁজে বেড়ায়, যার মাধ্যমে ইরানকে ভেঙে ফেলা বা যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানতে বাধ্য করা যাবে। তবে ইতিহাস বলছে, এ ধরনের কৌশল বারবারই যুক্তরাষ্ট্রকে হতাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল মহলে দীর্ঘদিন ধরে এমন ধারণা প্রচলিত যে, ইরানের অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থা পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একবার মন্তব্য করেছিলেন, ইরানকে শুধু বলতে হবে ‘আমরা হার মানলাম’। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষকদের মতে, চাপের কাছে নতি স্বীকারের চেয়ে তেহরান দীর্ঘমেয়াদি সংকট সহ্য করাকেই বেশি প্রাধান্য দিতে পারে।
শেষ পর্যন্ত যদি ট্রাম্প প্রশাসন এই দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে পারে, তবে তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে ব্যর্থ হলে ইরান আবারও প্রমাণ করতে পারে যে দীর্ঘমেয়াদি চাপ ও নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলকে অকার্যকর করে দিতে পারে।
সূত্র: সিএনএন







