• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

গণতান্ত্রিক যাত্রায় ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৭ পি.এম.
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চলতি বছরের জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এই অনুষ্ঠান হয়।  

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সন্মাননা গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি যে রাষ্ট্রে আইনের শাসন ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার নেই সেই দেশ কখনোই একটি গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র হতে পারে না বা হয়ে উঠতে পারে না। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের জনগণ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে হাটতে শুরু করেছে। এই গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। “

“আর এই ন্যায়বিচার সবার জন্যই প্রযোজ্য। একজন মানুষও যাতে অর্থের অভাবে এক্সেস টু জাস্টিস থেকে বঞ্চিত না হয়। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার লিগালি কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

একজন ভক্তভোগী টাকার অভাবে আইনজীবী সহায়তা নিতে পারবে না। এমনটা যেন না হয় সেটি সরকার চেষ্টা করবে সর্বোতভাবে নিশ্চিত করতে। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান নয় এমন মানুষদের জন্য এক্সেস টু জাস্টিস নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।”

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, “ন্যায়বিচারের কথা শুধু আইনের বইয়ে নয়। এটি প্রতিটি মানুষের জীবনেই সত্য এবং বাস্তব হয়ে উঠুক। এটি বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা। ন্যায়বিচার কখনোই কেবল আদালত কেন্দ্রিক নয়, কোন প্রক্রিয়া নয়। এটি একটি জীবন্ত মূল্যবোধ। যা রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি, প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অবশ্যই প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।”

“ন্যায় পরায়নতা তখনই অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন আইন মানুষের উপর প্রয়োগের একটি যান্ত্রিক উপায় না হয়ে বরং তাদের মর্যাদা সংরক্ষণ এবং প্রাপ্ত অধিকার নিশ্চিত করার একটি গভীর নৈতিক অঙ্গীকারের রূপ নেয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসেও এই ন্যায়বোধ একটি শক্তিশালী প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। যেহেতু ন্যায়বিচার প্রাপ্তি প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। যেহেতু সেই অধিকার যাতে প্রত্যেকটি মানুষ চর্চা করতে পারে তাদেরকে সরকার যথাসাধ্য লিগাল এইড দিবে। এ লক্ষে ইতিমধ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন এনেছে। ”

এছাড়া  সারাদেশে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সমাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি সেল ব্র্যাককে মনোনীত করা হয়। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা পত্র ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

লিগ্যাল এইড ব্যবস্থায় মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ সারা বিশ্বে একটি কথা বিশেষভাবে প্রচলিত। সেটি হচ্ছে জাস্টিস ডিলেড ইজ জাস্টিস ডিনাই। অর্থাৎ বিচার বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে লিগাল এইডের মাধ্যমে মামলার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে…।”

“এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েক হাজার বা তারও বেশি হবে, হাজারেরও বেশি হবে…বিরোধ-বিবাদ স্বল্প সময় এবং খুব খরচে আদালতের বাইরেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মাস বা বছরের পরিবর্তে বরং কয়েকটি বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানগুলো করা সম্ভব হয়েছে। এতে আদালত চাপ কমেছে। সরকারের খরচও হ্রাস পেয়েছে। ”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেক সময় মানুষ সমস্যা হলে প্রাথমিকভাবে সঠিক পরামর্শ না পাওয়ার কারণে একদিকে সাধারণ বিরোধ বড় হয় এবং পরবর্তীতে তা জটিল রূপ ধারণ করে। ফলে অনেক সময় মানুষ বিচার বিমুখ হয়ে যায় কিংবা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। সুতরাং মানুষ যেন সহজে প্রাথমিক আইনি পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারের লিগাল এইড হেল্পলাইন আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ব্যক্তিগতভাবে একজন নাগরিক হিসেবে আমি সেটি আশা করি।”

“প্রতিটি মানুষের মনে এমন বিশ্বাস থাকতে হবে যে জনগণের যেকোনো প্রয়োজনে রাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে। লিগাল এইড সেই বিশ্বাসেরই একটি প্রতিফলন বলে আমি বিশ্বাস করি। আসুন আমরা সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলি। যেখানে ন্যায় বিচারই হবে শেষ কথা আমাদের। আমি জাতীয় আইনগত সহায়তার উদ্যোগের সার্বজনীন সাফল্য কামনা করি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, এক্সেস টু জাস্টিস। প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। রাষ্ট্রের কোন নাগরিক অর্থের অভাবে আইনের আশ্রয় কিংবা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত থাকবে এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনভাবেই কাম্য বা প্রত্যাশিত নয়।”

“রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমাকেও দীর্ঘ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। তখন আমি নিজে কারাগারে এমন অনেককে দেখেছি যারা শুধুমাত্র আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ার কারণে বছরের পর বছর ধরে বিনা বিচারে কারাগারে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বা হয়েছেন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ার কারণে বছরের পর বছর ধরে বিনা বিচারে কারাগারে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বা হয়েছেন। একজন মানুষ অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাম্য নয়। ”

তিনি বলেন, “যেকোন রাষ্ট্র এবং সমাজের অগ্রগতি ও শান্তির ভিত্তি হচ্ছে ন্যায়বিচার। সবযুগেই মানুষ যা চেয়েছে তা হল বৈষম্যহীন একটি সমাজ ব্যবস্থা। যেখানে তারা সমমর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। সমতা সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক আস্থা একটা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষঠ জন্য অবশ্যই অপরিহার্য।”

আমি বলব ন্যায়বিচার শুধু আদালত বা আইনের বিষয় নয়। এটি একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল শক্তি। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে দেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উপরে প্রতিষ্ঠার শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ায় সুগম করতে লিগাল এইড ফার্ম তৈরি করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, আইনগত সহায়তা অধিদফতরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ঈদে টানা ছুটি,  সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
ঈদে টানা ছুটি, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোসাটম মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোসাটম মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ
জলবায়ু সংকট মোকাবিলা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী
জলবায়ু সংকট মোকাবিলা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী