• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ইইউর মূল্যায়ন:

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি চলতি বছরের নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৩ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে মূল্যায়ন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নতুন গতি দিয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস ইজাবস এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া কীভাবে গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণকে ত্বরান্বিত করতে পারে, এবারের নির্বাচন তার বাস্তব উদাহরণ।

ইভারস ইজাবস বলেন, ২০০৮ সালের পর এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন প্রকৃত অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ায় মৌলিক নাগরিক স্বাধীনতা তুলনামূলকভাবে বজায় ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ, স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা এবং ফলাফলের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেছে যে, একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

ইইউ মিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নির্বাচনটি একটি নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২৫ সালে আনা সংশোধনীগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য করতে সহায়তা করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনের আগে এবং চলাকালে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য জোরদারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এসব পদক্ষেপ সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করছে ইইউ।

তবে ইতিবাচক মূল্যায়নের পাশাপাশি কিছু উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেছে পর্যবেক্ষক মিশন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা নির্বাচনী পরিবেশকে আংশিকভাবে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। 

ইইউ আরও বলেছে, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। রাজনৈতিক দলে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ সীমিত ছিল, যা গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকেও ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে ইইউ মিশন। সংস্থাটি বলেছে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। একই সঙ্গে অংশীজনদের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইভারস ইজাবস বলেন, নির্বাচন কমিশনের পেশাদার ভূমিকা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা এবারের নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্র পরিচালনা, ভোট গণনা এবং ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে কমিশনের দক্ষতা দৃশ্যমান ছিল।

তবে ইইউর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিদ্যমান নির্বাচনী আইনগত কাঠামো এখনও পুরোপুরি সুসংহত নয়। যদিও সাম্প্রতিক সংস্কারগুলো ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে, তবুও আইনের কিছু দুর্বলতা এবং অস্পষ্টতা এখনো রয়ে গেছে। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করতে ভবিষ্যতে আরও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইইউর এই মূল্যায়ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে ইইউর পর্যবেক্ষণ বলছে, ২০২৬ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে এই অগ্রগতি টেকসই করতে হলে রাজনৈতিক সহিংসতা, অপপ্রচার এবং নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত থাকার মতো বিষয়গুলো সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
কমিউটার ট্রেনের ভাড়া বকেয়া, চুক্তি বাতিল করল বাংলাদেশ রেলওয়ে
কমিউটার ট্রেনের ভাড়া বকেয়া, চুক্তি বাতিল করল বাংলাদেশ রেলওয়ে
সৌদি যুবরাজকে সংহতি বার্তা পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
সৌদি যুবরাজকে সংহতি বার্তা পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বব্যাংকের ডিরেক্টরের সঙ্গে পরিবেশমন্ত্রীর বৈঠক
বিশ্বব্যাংকের ডিরেক্টরের সঙ্গে পরিবেশমন্ত্রীর বৈঠক