যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে থামেনি সংঘর্ষ, বাড়ছে উত্তেজনা

লেবাননে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে সংঘর্ষ থামেনি। দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে বাড়িঘর ধ্বংসের কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
ইসরায়েল পূর্বেই জানিয়ে আসছে যে তারা ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ অব্যাহত রাখবে। সেই অবস্থান থেকে দেশটির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় শুরু থেকেই সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ রকেট হামলা চালানোর কথা জানিয়ে আসছে। ফলে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী জানান, হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে লেবাননের আরও ভেতরে পাল্টা আঘাত হানা হচ্ছে।
এদিকে, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ওয়াদি আল-হুজাইর এলাকায় দুইজন, টাউলিনে দুইজন এবং স্রিফা ও ইয়াতের এলাকায় একজন করে রয়েছেন বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে, লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (ইউএনআইএফআইএল) জানিয়েছে, গত ২৯ মার্চ তাদের একটি ঘাঁটিতে হামলায় আহত হওয়া এক ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। প্রাথমিক তদন্তে জাতিসংঘ দাবি করেছে, ওই হামলা ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলায় সংঘটিত হয়েছিল। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের বিন্ত জবেইল শহরে অভিযানে তারা ছয়জনকে হত্যা করেছে, যারা হিজবুল্লাহর সদস্য। তবে নিহতদের পরিচয় নিয়ে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও ইসরায়েলের দাবির মধ্যে কোনো সরাসরি মিল পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান উত্তেজনা নিরসনে একটি স্থায়ী ও কার্যকর চুক্তি প্রয়োজন, যার মাধ্যমে সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হবে এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার নিশ্চিত করা যাবে।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু/এমএস







