দেশে জঙ্গি হামলার শঙ্কা, সব প্রশ্নের একই জবাব-“আমরা কাজ করছি”

নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থকদের সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং সব জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে “আমরা কাজ করছি”-এমন মন্তব্যই করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ‘চলমান এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্রশ্নপত্র ফাঁস সম্পর্কিত অনলাইন প্রতারণা’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার শঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা তথ্য পেয়েছি। সিটিটিসি, সাইবার ইন্টেলিজেন্সসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।”
জনমনে সৃষ্ট আতঙ্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা কাজ করছি।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে জোরদার করা হচ্ছে-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি এটিকে ‘গোপনীয় বিষয়’ বলে উল্লেখ করেন।
৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই বলে এর আগে মন্তব্য করেছিলেন ডিএমপি কমিশনার। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নে সিটিটিসি কর্মকর্তার জবাব, “আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি, এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।”
এর আগে শুক্রবার রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি নির্দেশনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র এবং রাজধানীর শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে।
বোমা হামলার পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমনকি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারেও হামলার পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। এ প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এম আই







