ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হলো মীর জাফরের বংশধরদের

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় মুর্শিদাবাদে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে মীর জাফরের বংশধরদের একটি বড় অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের পর তাদের বহু সদস্যের নাম বাদ পড়েছে।
মুর্শিদাবাদের লালবাগের ঐতিহাসিক কেল্লা নিজামত ও আশপাশের এলাকায় এখনও মীর জাফরের বংশধরদের বসবাস করে। তাদের মধ্যে অন্যতম পরিচিত সদস্য সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলী মির্জা, যিনি স্থানীয়ভাবে 'ছোটে নবাব'নামে পরিচিত। অভিযোগ অনুযায়ী, তার পরিবারসহ দেড় শতাধিক সদস্যের নাম ভোটার তালিকায় পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্য সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম আলী মির্জা জানান, প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশের পর শুনানিতে ডাকা হলে তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেন। কিন্তু পরে চূড়ান্ত তালিকায় অনেকের নাম আর রাখা হয়নি।
তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাদের বংশের প্রায় ৩০০ জনের বেশি সদস্যের নাম বাদ পড়েছে। ফলে প্রথম দফার ভোটে পরিবারের বহু সদস্য ভোট দিতে পারেননি।
মীর জাফরের পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন, ১৯৪৭ সালে অনেক প্রলোভন সত্ত্বেও পরিবারের বেশিরভাগই পাকিস্তানে না গিয়ে ভারতে থেকে যায়, এত বছর পরে কেন নতুন করে তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে?
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর ব্রিটিশদের সমর্থনে বাংলার নবাব হন মীর জাফর। বর্তমানে তার ১৫তম বংশধর মহম্মদ রেজা আলী মির্জা এখনও মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক এলাকায় বসবাস করছেন। ১৬তম বংশধর সৈয়দ মহম্মদ ফাহিম মির্জাও বাবার সঙ্গে একই বাড়িতে থাকেন। ‘কিল্লা নিজামত’ চত্বরে নবাব পরিবারের আরও বহু সদস্যের বাস। তাদের অনেকের নামও ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে মুছে দেওয়া হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু







