• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

পারমাণবিক যুদ্ধের পথে ইরান? বাস্তবতা ও কূটনৈতিক সমীকরণ

মেহেদী সৌরভ    ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২০ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ফেব্রুয়ারি ও মার্চের ভয়াবহ সংঘাত, আর এপ্রিলের টালমাটাল যুদ্ধবিরতির পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-ইরান কি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথে এগোতে পারে? বিষয়টি আর কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণের কেন্দ্রে উঠে এসেছে নতুন এক অনিশ্চয়তা।

তবে কূটনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতা বলছে, ইরানের লক্ষ্য পারমাণবিক বোমা ব্যবহার নয়—বরং এর সক্ষমতা অর্জনই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

পারমাণবিক অস্ত্র আধুনিক যুদ্ধের সাধারণ কোনো হাতিয়ার নয়, এটি মূলত একটি রাজনৈতিক বার্তা ও প্রতিরোধমূলক শক্তি। তেহরান খুব ভালো করেই জানে, এই অস্ত্র ব্যবহার করা মানে শুধু যুদ্ধ নয়—বরং রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অস্তিত্বকেই ঝুঁকিতে ফেলা। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পারমাণবিক হামলা চালানো ‘মিউচুয়ালি অ্যাসিউরড ডেসট্রাকশন’ বা পারস্পরিক নিশ্চিত ধ্বংসের পথ খুলে দিতে পারে—যার পরিণতি হবে ভয়াবহ ও আত্মঘাতী।

এই কারণেই বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কৌশল হলো যুদ্ধ নয়, বরং প্রতিরোধ। অর্থাৎ পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে এমন একটি অবস্থান তৈরি করা, যেখানে প্রতিপক্ষ সরাসরি সামরিক অভিযানে যাওয়ার আগে একাধিকবার ভাবতে বাধ্য হয়। এই নীতি মূলত ‘ডিটারেন্স’ বা ভয়ভিত্তিক প্রতিরোধ কৌশল হিসেবে পরিচিত।

ইরান অতীতে ইরাক ও লিবিয়ার অভিজ্ঞতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে—যেখানে সামরিক দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত বিদেশি হস্তক্ষেপকে সহজ করে তুলেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তেহরানের ধারণা, পারমাণবিক সক্ষমতা থাকলে বড় শক্তিগুলো সরাসরি আক্রমণে যাওয়ার ঝুঁকি কম নেবে। ফলে এই সক্ষমতা তাদের কাছে অস্ত্রের চেয়ে বেশি একটি নিরাপত্তা ঢাল।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি একমুখী নয়। ফেব্রুয়ারির সংঘাতে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই পরিবর্তন ইরানের অবস্থানকে আরও কঠোর করতে পারে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকট ইরানকে বড় ধরনের ঝুঁকি নেওয়া থেকে অনেকটাই বিরত রাখছে।

একটি পূর্ণমাত্রার পারমাণবিক সংঘাত ইরানের জন্য কেবল সামরিক বিপর্যয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব সংকট তৈরি করতে পারে—এমন মূল্যায়নই এখন অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের বর্তমান অবস্থানকে অনেকেই কৌশলগত দরকষাকষি হিসেবে দেখছেন। পারমাণবিক সক্ষমতার ইস্যুটি আলোচনার টেবিলে একটি শক্তিশালী চাপ হিসেবে ব্যবহার করে তারা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধিও সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক সমীকরণের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু সেটি ব্যবহারের পথে যাওয়া তাদের জন্য এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত। চূড়ান্ত ধ্বংসের পথে হাঁটার চেয়ে কৌশলগত অবস্থান শক্ত করাই তেহরানের মূল লক্ষ্য—এমনটাই বলছে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ।

ভিওডি বাংলা/এমএস/এসআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আজ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম দফার নির্বাচন
আজ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম দফার নির্বাচন
ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ জব্দ করেছে ইরান
হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ জব্দ করেছে ইরান