সৌদি থেকে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল আসছে চট্টগ্রামে

দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চলমান সংকট কিছুটা স্বস্তি দিতে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে চট্টগ্রামের পথে রওনা হয়েছে একটি ট্যাংকার জাহাজ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাত ৩টায় সৌদির ইয়ানবু বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এমটি নিনেমিয়া’ নামের এই জাহাজটি। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি সকালে রওনা দেয়।
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শরীফ হাসনাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই চালানটি দেশের জ্বালানি উৎপাদন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার মতে, জাহাজটি সরাসরি নিরাপদ রুটে আসছে এবং হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হচ্ছে না, যা পরিবহন ঝুঁকি কিছুটা কমিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে প্রায় ১২ দিনের মধ্যে ট্যাংকারটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে। এরপর প্রয়োজনীয় আনলোডিং ও প্রক্রিয়া শেষে ইস্টার্ন রিফাইনারি আবারও কাঁচা তেল পরিশোধন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্ভাব্যভাবে আগামী ৪ বা ৫ মে নাগাদ কারখানাটি পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরতে পারে।
সূত্র অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ক্রুড অয়েল না থাকায় ইস্টার্ন রিফাইনারির ডিস্টিলেশন ইউনিট ১২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত এই শোধনাগারে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে, যা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পূর্বে আসা একটি বড় চালান—‘নর্ডিক পোলক্স’ জাহাজের তেলও হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি না পাওয়ায় সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অপেক্ষমাণ রয়েছে বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে বিকল্প উৎস হিসেবে ক্রুড অয়েল আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশই আমদানি নির্ভর, আর বাকি অংশ স্থানীয় উৎস থেকে পূরণ করা হয়। আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য তৈরি করা হয়।
ইআরএল বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে এলপিজি, ডিজেল, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন ও ফার্নেস অয়েলসহ প্রায় ১৬ ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করে থাকে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুধু জ্বালানি সরবরাহই নিশ্চিত হয় না, বরং তুলনামূলকভাবে খরচও কমে আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ভিওডি বাংলা/জা







