পশ্চিমবঙ্গের ভোটের প্রচারে মোদির ঝালমুড়ি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এসে ঝালমুড়ি খাওয়াকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার ঝাড়গ্রামে প্রচারণার সময় হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে রাস্তার পাশের এক দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খাওয়ার ঘটনাটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, প্রচারণার মাঝপথে মোদি তার গাড়িবহর থামিয়ে একটি ছোট দোকানে যান এবং ১০ রুপির ঝালমুড়ি কেনেন। ঝালমুড়ি প্রস্তুতের সময় দোকানদার তাকে পেঁয়াজ দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি মজার ছলে বলেন, “শুধু মাথা খাই না”—এ মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে।
বাংলার জনপ্রিয় এই মুখরোচক খাবার ঝালমুড়ি—মুড়ি, তেল, লঙ্কা, চানাচুরসহ নানা উপকরণে তৈরি—দীর্ঘদিন ধরে বাঙালির দৈনন্দিন জীবনের অংশ। আড্ডা কিংবা অবসর—সব ক্ষেত্রেই ঝালমুড়ি যেন এক অনিবার্য উপাদান। সেই ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতেই মোদির এই হঠাৎ বিরতি বলে মনে করছেন অনেকে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কোটি মানুষের বেশি এই ভিডিও দেখেছে বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য।
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এই ঘটনাকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংযোগের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের দাবি, মোদির এই আচরণ তার সরলতা ও জনসংযোগের প্রমাণ বহন করে এবং নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে “সাজানো নাটক” বলে আখ্যা দিয়েছেন। এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ঝালমুড়ি খাওয়ার পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত।
মমতা প্রশ্ন তোলেন, হঠাৎ করে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী সেখানে থামলে দোকানের ভেতরে আগে থেকেই ক্যামেরা স্থাপন করা হলো কীভাবে। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি) আগেই সব ব্যবস্থা করে রেখেছিল। এমনকি ঝালমুড়ি প্রস্তুত এবং অর্থ প্রদানের বিষয়টিও পরিকল্পিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, এই ঘটনার কারণে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন-এর নির্ধারিত কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মোদির উপস্থিতির কারণে পুরো এলাকা ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা হয়, ফলে সোরেনের হেলিকপ্টার সেখানে অবতরণ করতে পারেনি। এতে তিনি ও তার স্ত্রী কল্পনা সোরেনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি বাতিল করে রাঁচিতে ফিরে যেতে হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে “আদিবাসী-বিরোধী মনোভাবের” উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বাবুল সুপ্রিয় ভিন্ন সুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, বাংলার ঝালমুড়ির গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রী উপলব্ধি করছেন—এটা আনন্দের বিষয়। একইসঙ্গে তিনি স্মরণ করেন, একসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে ঝালমুড়ি খাইয়েছিলেন।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। কেউ এটিকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
সব মিলিয়ে, ঝালমুড়ির মতো একটি সাধারণ খাবার ঘিরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। নির্বাচনী প্রচারের এই পর্যায়ে এমন একটি ঘটনাই যে রাজনৈতিক বক্তব্যের নতুন ‘মশলা’ হয়ে উঠতে পারে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এসআর







