হরমুজ উত্তেজনার অবসান
বিশ্ববাজারে জ্বালানিতে স্বস্তি, নজর এখন সরকারের সিদ্ধান্তে

দীর্ঘ উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। আর এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। অথচ দিনের শুরুতেও এর দাম ছিল ৯৮ ডলারের ওপরে।
বিশ্ববাজারের সর্বশেষ চিত্র অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ দশমিক ৫৯ ডলার কমে ৮৮ দশমিক ৮০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই তেলের দাম প্রায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৮৯ ডলারে অবস্থান করছে।
তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, পেট্রোল পাম্প মালিকরা এর আগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সঙ্গে বৈঠকে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকারও মূল্যবৃদ্ধির আভাস দিয়েছিল। কিন্তু এখন বিশ্ববাজারে দাম কমে যাওয়ায় সেই সুযোগ আর থাকছে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) স্বয়ংক্রিয় ফরমুলা অনুযায়ী ১৫ দিন বা এক মাসের আন্তর্জাতিক গড় দামের ভিত্তিতে দেশীয় মূল্য নির্ধারিত হয়। সে হিসাবে বিশ্ববাজারের এই ১৩ শতাংশ পতন দেশে লিটারপ্রতি অন্তত ৫ থেকে ৮ টাকা কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ পাঠান বলেন, বিশ্ববাজারে দাম কমার সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে সরকারকে দ্রুত সমন্বয় করতে হবে। তেলের দাম কমলে শুধু ভোক্তার ব্যয় কমবে না, পরিবহন ভাড়া ও কৃষি সেচ খরচ কমার মাধ্যমে নিত্যপণ্যের বাজারেও স্বস্তি ফিরবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে এই দরপতন যদি মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বজায় থাকে, তাহলে আগামী ১ মে থেকে বড় ধরনের মূল্যহ্রাসের ঘোষণা আসতে পারে।
পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মীর আহসান পারভেজ বলেন, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনায় দেশে যে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা এখন কেটে যাবে। পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, নতুন চালানও নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সুযোগ সরকারের আর নেই। বরং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বিদ্যমান মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী লিটারপ্রতি ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত দাম কমানোর বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের টার্নিং পয়েন্ট। এতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা কমার ইঙ্গিত মিলছে। এখন সাধারণ মানুষের নজর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে, যখন দেশের জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ হতে পারে। সরকার দ্রুত ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারলে বাজারে আস্থা ফিরবে, স্বস্তি পাবে ভোক্তারাও।
ভিওডি বাংলা/এমএস







