• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
টপ নিউজ
চলন্ত গাড়িতে অস্ত্রের মুখে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ১ আগুন লাগার খবরে তাৎক্ষণিক চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স পাঠান প্রধানমন্ত্রী : সানি গাজীপুরে তেলের গরমিল, ২০ হাজার টাকা জরিমানা ইসরায়েলগামী ব্রিটিশ অস্ত্রের চালান জব্দ করলো বেলজিয়াম লেবাননে ‘শিগগিরই’ যুদ্ধবিরতি হতে পারে : হিজবুল্লাহর মুখপাত্র মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ‘রাস্তা ভিক্ষা’ চাই : হাসনাত আব্দুল্লাহ বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তারেক রহমান উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ২০ এপ্রিল পৈতৃক ভিটায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী লালমুক্তিবার্তা-ভারতীয় তালিকার ৬৪৭৬ জন ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা বাদ: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

১৫ বছর পর ফিরল বৃত্তি পরীক্ষা

যশোরে উৎসবমুখর পরিবেশে মেধা লড়াই

যশোর প্রতিনিধি    ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৩ পি.এম.
১৫ বছর পর ফিরল বৃত্তি পরীক্ষা। ছবি: ভিওডি বাংলা

​দীর্ঘ দেড় দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হলো প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬। ২০০৯ সালে প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) চালুর পর বন্ধ হয়ে যাওয়া এই পরীক্ষা নতুন কারিকুলাম ও মূল্যায়ন পদ্ধতির অংশ হিসেবে বুধবার (১৫ এপ্রিল) পুনরায় শুরু হয়েছে। যশোরে সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলে এই মেধা যাচাইয়ের লড়াই।

যশোর জেলার ৮টি উপজেলায় ১৯ টি কেন্দ্রে এবার মোট ১২ হাজার ২৮০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৮৯ জন এবং ছাত্রী ৭ হাজার ১৯১ জন। সকাল ৯টা থেকেই কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিন পর বৃত্তি পরীক্ষা ফেরায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ছিল বাড়তি উৎসাহ ও আবেগ। 

​যশোর কালেক্টরেট স্কুল কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলে, "আব্বু-আম্মুরা ছোটবেলায় বৃত্তি পরীক্ষা দিয়েছেন শুনেছিলাম, আজ আমি দিলাম। প্রশ্ন অনেক সহজ হয়েছে।" তবে প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে মিউনিসিপ্যাল প্রিপারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসফিকুল হক জানায়, সমাপনী পরীক্ষার চেয়ে এখানে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি, কারণ সারাদেশের সেরা ছাত্রছাত্রীরা এতে অংশ নিচ্ছে।

​অভিভাবকদের বড় একটি অংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অভিভাবক রেহানা পারভীন বলেন, "সমাপনীতে সবাই পাস করায় মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন হতো না। এই পরীক্ষা মেধাবীদের পড়াশোনায় আরও আগ্রহী করবে।" তবে গ্রামের শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গৃহিণী সালমা খাতুন। তিনি বলেন, "শহরের বাচ্চারা কোচিং-গাইডের সুবিধা পেলেও গ্রামের স্কুলে সেই সুযোগ কম। তাদের জন্য আলাদা প্রস্তুতি দরকার।" ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম প্রতিযোগিতাকে ইতিবাচক দেখলেও শিশুদের ওপর যেন অতিরিক্ত মানসিক চাপ না পড়ে, সেদিকে নজর দেওয়ার অনুরোধ করেন।

​চৌগাছা মডেল সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রের পরিদর্শক তৌহিদুর রহমান জানান, প্রশ্নপত্র নতুন কারিকুলামের আলোকে সৃজনশীল করা হয়েছে, যেখানে মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে মেধা যাচাইয়ের সুযোগ বেশি। তবে অনেক শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে চলে যাওয়ায় উপস্থিতির হার কিছুটা কম ছিল।

​সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম ও চৌগাছা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি।

​সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম বলেন,' সদর উপজেলাতে ৫ টি কেন্দ্রে মোট পরিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ৩১৫৭ জন তার মধ্যে উপস্থিত ২১২৬ জন, অনুপস্থিত ছিলো ১০৩১ জন যা শতকরা ৬৭%। আমাদের প্রতিটি কেন্দ্র অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ছে।"

চৌগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মোট পরীক্ষার্থী ১২৫৯ জন, উপস্থিত পরীক্ষার্থী ৯০২ জন, অনুপস্থিত পরীক্ষার্থী ৩৫৭জন, সুন্দর পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা বা কেউ বহিষ্কার হয়নি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্র মতে “সারাদেশে ৩২ লাখ শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। প্রতি উপজেলায় ইউনিয়ন কোটা অনুযায়ী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে মাসিক ৩০০ টাকা, সাধারণ গ্রেডে ২২৫ টাকা করে ৩ বছর দেওয়া হবে। ফলাফল প্রকাশ হবে ৩০ মে।”

এই বছর মোট ৮২,৫০০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩,০০০ জন ট্যালেন্টপুল (মেধা) এবং ৪৯,৫০০ জন সাধারণ কোটায় বৃত্তি পাবে।

​নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৪০% শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও কিন্ডারগার্টেন বা বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে।

পরীক্ষায় পাস নম্বর বা ফলাফলের ভিত্তিতে মেধা তালিকা তৈরি করা হবে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

২০০৯ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা চালুর পর সরকার যুক্তি দিয়েছিল, দুটি পাবলিক পরীক্ষা শিশুদের উপর চাপ তৈরি করে। তাই বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ করে সমাপনীর ফলের ভিত্তিতেই বৃত্তি দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু শিক্ষাবিদরা দীর্ঘদিন ধরে বলছিলেন, সমাপনীতে পাসের হার ৯৮ শতাংশ, ফলে মেধা যাচাই হচ্ছে না। নতুন কারিকুলামে ধারাবাহিক মূল্যায়নের পাশাপাশি মেধাবীদের আলাদা স্বীকৃতি দিতে বৃত্তি পরীক্ষা ফিরিয়ে আনা হলো। 

বৃত্তি পরীক্ষা ফিরে আসায় বেশিরভাগ অভিভাবক-শিক্ষক খুশি হলেও কেউ কেউ উদ্বেগও জানিয়েছেন।

​দীর্ঘ বিরতির পর চালু হওয়া এই পরীক্ষা শিশুদের মেধা বিকাশে এবং পড়াশোনায় সুস্থ প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিওডি বাংলা/জুবায়ের হোসেন/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আয়রন ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ, ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
আয়রন ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ, ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
মানিকছড়িতে পাহাড় কাটা পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি
মানিকছড়িতে পাহাড় কাটা পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি
বাকৃবিতে পরিবেশবাদী সংগঠন 'জিসি-বিসি'র আত্মপ্রকাশ
বাকৃবিতে পরিবেশবাদী সংগঠন 'জিসি-বিসি'র আত্মপ্রকাশ