• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বৈশাখে জেগে উঠুক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানবিক অঙ্গীকার

মোহাম্মদ আবদুস সালাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা    ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৯ এ.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

পহেলা বৈশাখ শুধু বাংলা সনের প্রথম দিন নয়; এটি এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে ‘সবার আগে বাংলাদেশ নীতি’ গ্রহণ করা এক নতুন বাংলাদেশের উৎসবমুখর পথচলার ইতিহাস। যা বাঙালির আত্মপরিচয়, সাংস্কৃতিক ঐক্য এবং ঐতিহাসিক চেতনার এক মহামিলন।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এই দিনটি আমার কাছে কেবল উৎসবের নয়—এটি স্মৃতির, দায়বদ্ধতার এবং নতুন করে শপথ নেওয়ার দিন। আমরা যে বাংলাদেশকে আজ স্বাধীনভাবে উদযাপন করি, তার পেছনে রয়েছে ১৯৭১ সালের দীর্ঘ নয় মাসের সংগ্রাম, লাখো শহীদের আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য মানুষের অমলিন অবদান।

বাংলা নববর্ষের উৎপত্তি ঐতিহাসিকভাবে মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে প্রবর্তিত বাংলা সনের সাথে যুক্ত হলেও, সময়ের পরিক্রমায় এটি হয়ে উঠেছে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির প্রধান বাহক। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি নির্বিশেষে এই উৎসব আমাদের একসূত্রে গাঁথে। গ্রামীণ মেলা, হালখাতা, পান্তা-ইলিশ কিংবা শহুরে বৈশাখী শোভাযাত্রা—সবকিছুই আমাদের ঐতিহ্যের বহুমাত্রিক প্রকাশ।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত—ইউনেস্কো এটিকে মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি প্রমাণ করে, আমাদের সংস্কৃতি কেবল জাতীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্বমানবতার অংশ।

তবে বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমাদের সংস্কৃতি বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রযুক্তির অগ্রগতি যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও বিকৃতির ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের দায়িত্ব আরও বেশি—আমাদের নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানানো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করানো এবং সাংস্কৃতিক শিকড়ের সাথে সংযুক্ত রাখা।

একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক এবং মানবিক সমাজ গড়ে তোলা। যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, বৈষম্য থাকবে না এবং সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। পহেলা বৈশাখ আমাদের সেই লক্ষ্য পুনর্নির্ধারণের একটি অনন্য সুযোগ এনে দেয়।

এই নববর্ষে আমরা যদি অতীতের শিক্ষা গ্রহণ করে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে পারি, তবে আমাদের অগ্রযাত্রা হবে আরও শক্তিশালী ও টেকসই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মানবিক মূল্যবোধ—এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ।

মনে রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সেই নীতি, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
শুভ নববর্ষ।

লেখক: সম্পাদক, ভিওডি বাংলা ডটকম

ভিওডি বাংলা/আরআর/আরকেএইচ/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সত্যিই ভিওডি বাংলা-পথ দেখে, পথ দেখায়
সত্যিই ভিওডি বাংলা-পথ দেখে, পথ দেখায়
মনে রাখুন—সবার আগে বাংলাদেশ
মনে রাখুন—সবার আগে বাংলাদেশ
শেখ রবিউল আলমকে ‘ভিলেন’ প্রমাণ করতে প্রপাগান্ডা!
শেখ রবিউল আলমকে ‘ভিলেন’ প্রমাণ করতে প্রপাগান্ডা!