হকারদের শৃঙ্খলা ফেরাতে লাইসেন্স দেওয়া হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, হকারদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করা হবে। একই সঙ্গে বিকল্প হিসেবে সান্ধ্যকালীন মার্কেট ও হলিডে মার্কেট চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে কেপিআরসি’র উদ্যোগে আয়োজিত খিলগাঁও আবাসিক এলাকার সমস্যাদি নিরসনে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, লাইসেন্সের মাধ্যমে হকারদের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। প্রতিটি হকারের জন্য লাইসেন্স থাকবে, যা গলায় ঝুলানো বা পকেটে রাখা থাকবে। একইভাবে নির্দিষ্ট স্থানে বসার জন্যও পৃথক পরিচয় থাকবে।
প্রশাসক জানান, রিকশার মতো করে নাম্বার ব্যবস্থাও চালু করা হবে। এতে করে এক জায়গায় যতজন হকার বসার অনুমতি থাকবে, ঠিক ততজনই বসতে পারবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত বা অবৈধ হকার বসতে পারবে না।
তিনি বলেন, আমরা হকারদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাই। ঢাকা শহর কি সারা বাংলাদেশের সবার জন্যই ব্যবহার করার জায়গা? আমরা ট্যাক্স দিচ্ছি, সবকিছু দিচ্ছি, আর তারা এসে ফ্রি ব্যবহার করবে—এটা তো হতে পারে না।
হকার ইস্যুতে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, অনেকেই বলছেন এখন ব্যবস্থা নিলে ভোট কমে যাবে। তবে তিনি জানান, এসব সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং এতে অনেকেই সমর্থন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এদিকে পল্লিমা সংসদ ও খিলগাঁও আবাসিক এলাকার পরিবেশ রক্ষা কমিটির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এমন সংগঠন থাকলেও এলাকায় যেসব সমস্যা রয়েছে তা অবিশ্বাস্য মনে হয়। তবে সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
তিনি জানান, শিগগিরই পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন, রাজউকসহ বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে সমন্বয় সভা করা হবে। এতে এলাকার সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জোরপুকুর খেলার মাঠের পাশে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফুটপাত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে আপত্তি এসেছে, বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। তবে এটি বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প হওয়ায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
খিলগাঁও এলাকার সৌন্দর্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় এটি ঢাকা শহরের অন্যতম সুন্দর আবাসিক এলাকা ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে, যা স্থানীয়দের কারণেই হয়েছে।
ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও করোনার বিষয়ে তিনি বলেন, এসব নিয়ন্ত্রণে জনগণ ও সিটি কর্পোরেশন উভয়েরই সমান দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়।
কবরস্থান ও অবৈধ দখল প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রয়োজনে কবরস্থানের জায়গা সম্প্রসারণ করা হবে এবং দখল রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তার দলের কেউ এতে জড়িত থাকতে পারবে না। অন্যায় কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
আমরা আশাবাদী মানুষ। যদি সুযোগ পাই, ইনশাআল্লাহ দুই-তিন বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের চেহারা পরিবর্তন করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভিওডি বাংলা/এসআর







