• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বাঁশবাড়িয়া সাবমারসিবল সড়কের বেহাল দশা, ব্রিজ আছে কিন্তু নেই রাস্তা

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি    ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৬ পি.এম.
পাবনার ভাঙ্গুড়ার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া এলাকার বিধ্বস্ত সাবমারসিবল সড়ক। ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের সাবমারসিবল সড়ক এখন এলাকাবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙ্গুড়া থেকে নওগাঁগামী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ওপর ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও তার সংযোগ সড়কের একাংশ ভেঙে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে আছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে জনজীবনে নেমে এসেছে এক স্থবিরতা।  

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের একপাশের সংযোগ সড়ক সম্পূর্ণ ভেঙে নিচে নেমে গেছে। ভাঙা অংশে পানি জমে কচুরিপানায় ঢেকে গেছে পুরো ব্রিজ এলাকা। এই সড়ক রাস্তার কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে কাদা জমে রয়েছে, যা চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো ধরনের সতর্কতামূলক চিহ্ন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এই সড়কটি শুধু স্থানীয়দের জন্য নয়, আশপাশের অনেক গ্রামের মানুষের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক রাস্তা। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক পথ ব্যবহার করে বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র সহ বিভিন্ন কাজে যাতায়াত করেন। এছাড়াও কৃষি পণ্য পরিবহনের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে সেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, সড়কটিতে শুধু যানবাহন চালকরাই নন, পথচারীদের দুর্ভোগও চরমে পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিখ্যাত চলনবিল অঞ্চলের কৃষিনির্ভর এই এলাকায় উৎপাদিত ধান, পাট ও শাকসবজি বাজারে নিতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন অনেক কৃষকরা। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে পৌঁছানো যাচ্ছে না, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। বিকল্প পথেও রয়েছে অনেক ঝুঁকি। সড়কটি অচল হয়ে পড়ায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে অন্যের জমির আইল দিয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে যেমন ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে জমির মালিকদের সাথেও মাঝে মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এই বিকল্প পথও পানিতে তলিয়ে যায়, তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চলমান থাকলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা না হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হয়ে উঠবে

স্থানীয় গাড়ি চালক আঃ জব্বার ও জমির উদ্দিন বলেন,এই রাস্তা দিয়ে আগে সহজেই যাতায়াত করতাম। এখন ব্রিজ ভাঙা থাকার কারণে এই খারাপ সড়কের জন্য অন্তত ৬/৭ কিলোমিটার ঘুরে ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি আবার তেলের খরচও বেড়ে যায়। যাত্রীরাও বিরক্ত হয়ে যায়।

অটোচালক মো. আরমান বলেন, এই ভাঙা অংশের কারণে অন্যের জমির আইল দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যেতে হয় যা খুবই কষ্টসাধ্য। একটু ভুল হলেই গাড়ি উল্টে যেতে পারে। তাই আমরা ঝুঁকি নিতে চাই না। ফলে অনেক যাত্রীই গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়েছে।

স্থানীয় গৃহিণী আখি পারভীন বলেন, প্রতিদিন এই ভাঙা রাস্তার কারণে জমির আইল দিয়ে যেতে হয়। বৃষ্টির সময় কাদা আর পানির কারণে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। অনেক সময় আমরা অনেকই পড়েও গেছি।

শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন জানায়, স্কুলে যেতে হলে এই রাস্তাটাই সবচেয়ে কাছের হয়, কিন্তু এখন বিকল্প রাস্তা দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় নষ্ট হয়, অনেক সময় ক্লাস মিস হয়ে যায়।

স্থানীয় কৃষক আয়নাল সরদার ও শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকার প্রধান সমস্যা এখন এই রাস্তা। এই রাস্তা ভালো থাকলে আমরা সহজেই ফসল বাজারে নিতে পারতাম। এখন অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়, এতে খরচ বাড়ে, লাভ কমে যায়। অনেক সময় ফসল নষ্টও হয়ে যায়। আমরা অনেক কষ্টে চলাচল করছি। অন্যের জমির ওপর দিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে অনেক ঝামেলা হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে এলাকায় অশান্তি দিন দিন বেড়েই চলছে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত জনাব মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা আছে। ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভিওডি বাংলা/গিয়াস উদ্দিন সরদার/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলীমের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ
পাবনা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলীমের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ
সেই হাতুড়ে চিকিৎসককে এক বছরের জেল, প্রতিষ্ঠান সিলগালা
কুমারখালী সেই হাতুড়ে চিকিৎসককে এক বছরের জেল, প্রতিষ্ঠান সিলগালা
রাজারহাটে বই মেলায় এমপির আকস্মিক পরিদর্শন
রাজারহাটে বই মেলায় এমপির আকস্মিক পরিদর্শন