ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক: বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদে

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ৪০ দিনের যুদ্ধাবস্থা চলছে। এর প্রভাবে ঝিমোচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। জ্বালানি সংকটের মুখে উদ্বেগ বেড়েছে বিশ্বে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবারের (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদের বৈঠক ঘিরে জেগেছে আশার আলো। এ বৈঠকে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতারা। আর এ নিয়ে এখন বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদে।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়েছে, এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হতে যাওয়া এই কূটনৈতিক আলোচনার দিতে তাকিয়ে বিশ্ববাসী।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের স্থানীয় সময় শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে বৈঠক শুরু হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স। তার সঙ্গে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টেভ উইটকফ ও জারেড কুশনার।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষের নেতৃত্ব দেবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তার সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
আলোচনার শুরুতে দুই পক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আর উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আলোচনার মধ্যস্থতায় থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈঠককে ঘিরে ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকটি একটি গোপন ও নিরাপদ স্থানে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার থাকবে না।
দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘পাকিস্তান এখানে আয়োজক ও মধ্যস্থতাকারী। এটি কোনো প্রদর্শনী নয়-লক্ষ্য হলো বাস্তব ফলাফল।’
পাকিস্তান স্পষ্ট করেছে, তাদের লক্ষ্য স্বীকৃতি পাওয়া নয়; বরং দীর্ঘদিনের শত্রু দুই পক্ষের মধ্যে অর্থবহ সংলাপের পথ তৈরি করা। এছাড়াও ইসলামাবাদের রেড জোন এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আলোচনার মূল বিষয় ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব। যেখানে রয়েছে- হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধসহ নানা দাবি।
যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ১৫ দফা প্রস্তাব নিয়ে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/আরআর







