• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
টপ নিউজ
বেলজিয়াম ও ইইউতে ভারতের রাষ্ট্রদূত হলেন প্রণয় ভার্মা হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন: যুক্তরাজ্য লেবাননে হামলা চললে আলোচনা নয়: যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত দিল ইরান তিমি-হাঙরের ‘মেন্যু’ দিয়ে চিফ হুইপের মজার আমন্ত্রণ আমেরিকার ‘নিরাপত্তা ছাতা’ এখন অকার্যকর, বিকল্প খুঁজছে মিত্ররা চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে : এডিবি উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন দিগন্ত: বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বৈঠক দুই বছর ধরে অচল আট হাজার কোটির এসপিএম প্রকল্প পুলিশে জেলাভিত্তিক বড় নিয়োগ, কোন জেলায় পদসংখ্যা কত ... জনগণ দলকে ভালোবাসলে ব্যক্তি ও দলের প্রতীক এক হয়ে যায়: আবদুস সালাম

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫০ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে যে সাময়িক সরবরাহ বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তা ধীরে ধীরে কমে যাবে ও দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের পথে এগোবে। 

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রকাশিত এডিবির সর্বশেষ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) প্রতিবেদনে এসব পূর্বাভাস ও বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বহিঃখাতের চাপ এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত চিত্র দেওয়া হয়েছে।

এডিবির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত থাকতে পারে। তবে এরপর ধীরে ধীরে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে ফিরবে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ দশমিক ০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হওয়া এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসা, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়া এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়গুলো অর্থনীতিকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

এডিবি আরও মনে করছে, সামষ্টিক অর্থনীতিতে কিছু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ও বৈশ্বিক চাপ থাকলেও নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বহিঃখাতের চাপ-সব মিলিয়ে একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে সঠিক নীতি গ্রহণ এবং ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তার ভাষায়, নতুন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি যদি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে তা সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে, বেসরকারি খাতের আস্থা বাড়াবে এবং অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করবে। তিনি আরও বলেন, ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতি আরও স্থিতিস্থাপক হয়ে উঠতে পারে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হতে সক্ষম হবে।

মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি

এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরেও দেশে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্য ওঠানামা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এই চাপ অব্যাহত রাখবে।

তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে নামতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে চাপ কিছুটা হ্রাস পাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বহিঃখাতের অবস্থা

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির প্রায় ০ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকতে পারে। আগামী অর্থবছরে এটি সামান্য বেড়ে ০ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। আমদানি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ঘাটতির প্রসার এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছে এডিবি, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতিকে কিছুটা সহায়তা দেবে।

খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা

এডিবি বলছে, ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে মাঝারি ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সহজীকরণে নেওয়া নীতিগত উদ্যোগ অর্থনীতিকে সহায়তা করবে।

সেবা খাত পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি আরও গতি পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গৃহস্থালির ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং আর্থিক খাতের সংস্কারও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কৃষি খাতে অনুকূল আবহাওয়া ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। অন্যদিকে শিল্প খাতে রপ্তানি বৃদ্ধি, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি প্রবৃদ্ধিকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।

ঝুঁকি ও সতর্কতা

এডিবি সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, শিপিং রুটে বিঘ্ন এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যা দেখা দিলে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে পারে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আরও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
আরও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে অস্বস্তিতে সীমিত আয়ের মানুষ
নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে অস্বস্তিতে সীমিত আয়ের মানুষ
জ্বালানী সংকটের মধ্যে ভোজ্যতেলে কারসাজি
নেপথ্যে সিটিগ্রুপসহ চার প্রতিষ্ঠান জ্বালানী সংকটের মধ্যে ভোজ্যতেলে কারসাজি