সূর্যমুখীর সোনালি হাসিতে বদলে যাচ্ছে রাঙ্গাবালী

পটুয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা রাঙ্গাবালীতে এখন সোনালি রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে মাঠের পর মাঠ। সূর্যমুখী ফুলের দোলায় যেন নতুন স্বপ্ন বুনছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। দেশের ভোজ্যতেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এই তেলবীজ ফসলের আবাদ দিন দিন বাড়ছে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথও সুগম করছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে দেখা যায়, একসময় যেখানে জমিতে শুধু আমন ধানের চাষের পর অনাবাদি পড়ে থাকতো, সেখানে এখন সারি সারি সূর্যমুখীর ক্ষেত। কৃষকরা জানিয়েছেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী চাষ সহজ এবং ফলনও ভালো। পাশাপাশি এই ফসল থেকে উৎপাদিত তেল স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি।
উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কৃষক মোঃ শাজাহান চৌকিদার বলেন, “আগে জমি ফাঁকা পড়ে থাকত। এখন সূর্যমুখী চাষ করে ভালো লাভ হচ্ছে। খরচ কম, ফলন বেশ সব মিলিয়ে লাভজনক।”
কৃষক হেমায়েত প্যাদা বলেন, এবছর আমি প্রথম সূর্যমুখী চাষ করেছি। এখন মাঠ ভরা ফুল, মনে হচ্ছে ভালো ফলন পাব। তেলের দামও ভালো, আশা করছি ভালো লাভবান হবো।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর সূর্যমুখী চাষের জমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে, যাতে তারা আরও বেশি উৎপাদন করতে পারেন।
ভোজ্যতেলের বর্তমান আকাশচুম্বী চাহিদা, কম খরচে চাষাবাদ ও অল্প সময়ে অধিক ফলন এই তিনটি মূল কারণে সূর্যমুখী চাষে দিন দিন ঝুঁকছে কৃষকরা।
পরিকল্পিতভাবে সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে তা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র তেল উৎপাদন শিল্প গড়ে উঠার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাঙ্গবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, “দেশে ভোজ্যতেলের একটি বড় অংশ আমদানি করতে হয়। এই নির্ভরতা কমাতে সূর্যমুখীর মতো তেলবীজ ফসলের আবাদ বাড়ানো জরুরি। রাঙ্গাবালীর কৃষকরা সে দিক থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন।”
তিনি আরো বলেন,চলতি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনার আওতায় ২২০ জন কৃষক-কৃষাণীর মাঝে বিনামূল্যে সূর্যমুখী বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।রাঙ্গাবালী উপজেলাতে এবছর মোট ৩৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে।যা বিগত বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুন। কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ তারা সূর্যমুখীর তৈল ব্যবহার করে এবং অন্যান্য তেলের তুলনায় খরচ কম হয় এবং স্বাস্থ্যসম্মত একটি তেল। রাঙ্গাবালীতে এ বছর প্রায় ৫৮ মেট্রিক টন সূর্যমুখীর বীজ উৎপাদিত হবে। যা থেকে প্রায় ২৩ মেট্রিক টন সূর্যমুখী তেল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। যা স্থানীয় চাহিদার একটি অংশ পূরণ করে সক্ষম হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সূর্যমুখীর সোনালি আভায় রাঙ্গাবালীর মাঠ এখন শুধু নয়নাভিরামই নয়, বরং সম্ভাবনার নতুন দিগন্তও উন্মোচন করছে।
ভিওডি বাংলা/মোঃ কাওছার আহম্মেদ/আ







