বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে ভয়, সংকটে পড়তে পারে অর্থনীতি

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও সূচক অনুযায়ী সামগ্রিক লেনদেনে বাংলাদেশের অবস্থা ভালো বলা হলেও বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েই চলছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি শেষে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।
এ সময় পর্যন্ত সামগ্রিক লেনেদেনের (ওভারঅল ব্যালান্স) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ কোটি ডলার। এই সূচকটি আগের বছর একই সময় (ঋণাত্মক) ১১৫ কোটি ডলার ঘটতি ছিল।
চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসেবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। কিন্তু দেশে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স এখন সামান্য ঋণাত্মক আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে দুই হাজার ২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আগের বছর পাঠিয়েছিলেন এক হাজার ৮৮৭ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি ২১ দশমকি ৪ শতাংশ।
রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ বেশিরভাগ পণ্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম ৮ মাসে দেশে বাণিজ্য ঘাটতি এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা বাংলাদেশি টাকায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি।
আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) এই আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৭১ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট-বিওপি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছেন চার হাজার ৬১৭ কোটি (৪৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন) ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমকি ৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে প্রথম ৮ মাসে আমদানি হয়েছিল ৪৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
অন্যদিকে আলোচিত সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ২৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানের কারণেই চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গেল ফেব্রুয়ারিতে রমজানকে ঘিরে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়েছিল। ফলে সার্বিক আমদানির পরিমাণ বেড়ে যায়। একই সময়ে রপ্তানি আয় অস্বাভাবিকহারে কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে গেছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে হবে। তা না হলে সংকটে পড়বে অর্থনীতি।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে বাংলাদেশ।
ভিওডি বাংলা/আরআর/আরকেএইচ







