• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

তালতলীতে পুষ্টি সমৃদ্ধ দানাদার ফসল নিয়ে মাঠ দিবস

বরগুনা প্রতিনিধি    ৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১২ পি.এম.
ছবি-ভিওডি বাংলা

উপকূলীয় অঞ্চলের দীর্ঘদিনের চাষাবাদ সংকট কাটিয়ে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে পুষ্টি সমৃদ্ধ দানাদার ফসল। এমনই বার্তা নিয়ে বরগুনার তালতলী উপজেলার পচাকোরালিয়া কলারং এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ক এক মাঠ দিবস, যেখানে কৃষকদের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।

বার্লি, কাউন, চিনা ও সরগম এই দানাদার ফসলগুলো প্রতিকূল পরিবেশে বিশেষ করে লবণাক্ত উপকূলীয় জমিতে চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেখানে রবি মৌসুমে ধান, গম বা ভুট্টা চাষ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, সেখানে এই ফসলগুলো হতে পারে বাস্তবসম্মত বিকল্প।

অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)-এর উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, পটুয়াখালী এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন-এর অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায়। “বারিন্দ ও উপকূলীয় এলাকায় পুষ্টি-শস্যের জাত মূল্যায়ন ও মূল্যসংযোজিত পণ্যের সম্প্রসারণ” শীর্ষক এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে তালতলীতে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে।

মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. নাথু রাম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ড. নাজিরুল ইসলাম ও ড. মোহাম্মদ মোতাছিম বিল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন আরএআরএস রহমতপুরের সিএসও ড. মো. সহিদুল ইসলাম খান। এছাড়া প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও মিঠা পানির অভাবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ জমি পতিত থাকে। অথচ এসব জমিতে বার্লি, কাউন, চিনা ও সরগমের মতো খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ফসল চাষ করে কৃষকরা সহজেই লাভবান হতে পারেন। এতে একদিকে যেমন পতিত জমি চাষের আওতায় আসবে, অন্যদিকে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়বে।

তারা আরও জানান, এই ফসলগুলো শুধু পরিবেশ সহনশীলই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, খনিজ, ভিটামিন এবং বেটা-গ্লুকান নামক দ্রবণীয় আঁশ, যা রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। পাশাপাশি কম গ্লাইসেমিক সূচকের কারণে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধেও এই ফসল গুরুত্বপূর্ণ।

মাঠ দিবসে অংশ নেওয়া কৃষকদের সামনে এসব ফসলের চাষ পদ্ধতি, উৎপাদন প্রযুক্তি এবং ব্যবহারিক দিক তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনী প্লট ঘুরে দেখে কৃষকরা সরাসরি ফলনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

স্থানীয় এক কৃষক জানান, আমাদের এলাকায় লবণাক্ততার কারণে অনেক জমি ফাঁকা পড়ে থাকে। যদি এই ফসল ভালো ফলন দেয়, তাহলে আমরা চাষ করতে আগ্রহী।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, পুষ্টি সমৃদ্ধ দানাদার ফসলের আটা দিয়ে সহজেই রুটি, পরোটা, পাউরুটি, কেক ও বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করা যায়। পাশাপাশি এগুলো পশুখাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, ফলে এর বাজার সম্ভাবনাও বিস্তৃত।

মাঠ পরিদর্শন শেষে কৃষক-কৃষাণীরা এসব উন্নত জাত চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পিতভাবে এসব ফসলের সম্প্রসারণ করা গেলে উপকূলীয় কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটবে এবং দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভিওডি বাংলা/জা


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
নিয়ম ভেঙে সম্মানী নিচ্ছে শাহ মখদুম কলেজের গভর্নিং বডি
নিয়ম ভেঙে সম্মানী নিচ্ছে শাহ মখদুম কলেজের গভর্নিং বডি
নড়াইলে মায়ের বিরুদ্ধে ৩ মাসের শিশুকে হত্যার অভিযোগ
নড়াইলে মায়ের বিরুদ্ধে ৩ মাসের শিশুকে হত্যার অভিযোগ
যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ
যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ