সংসদের সাউন্ড সিস্টেম নতুন নয়, মেরামত করা

কান ব্যাথা হয়ে যায় বলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সে সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে হট্টগোল হয়, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়- অবশেষে বেরিয়েছে মূল রহস্য। পুরনো সাউন্ড সিস্টেম মেরামত করে নতুন বলে চালিয়ে দেয় ক্ষমতাচ্যুত সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের ভায়রার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড।
কাগজে-কলমে আরেক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ পেলেও আড়ালে তারাই সংসদের সংস্কার কাজ করেছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
সংসদের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ওঠার পর এ সংক্রান্ত কেনাকাটায় দুর্নীতি হয়েছে কি-না তা অনুসন্ধানে নেমে এসব তথ্য পায় দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন ঘোষণা দিয়ে নতুন সংসদ সদস্যদের জন্য সংসদের অধিবেশন কক্ষসহ গোটা ভবন সংস্কার করে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। তারা পুরোনো সাউন্ড সিস্টেম মেরামত করে নতুন সাউন্ড সিস্টেম কেনার বিল তুলে নেয়।
‘গণপূর্ত অধিদপ্তরের বেশ কিছু কর্মকর্তা এই অনিয়মে সরাসরি সহযোগিতা করেছিল। সাউন্ড সিস্টেম দুর্নীতির তথ্য চেয়ে বারবার চিঠি দিলেও গণপূর্ত থেকে সাড়া মিলছে না।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিন থেকেই সাউন্ড সিস্টেমের যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে বারবার অভিযোগ তুলেছেন জনপ্রতিনিধিরা।
দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংস্কার কাজে দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে গত জানুয়ারি মাসে অনুসন্ধান শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েক দফায় চিঠি দেয়ার পরেও গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাচ্ছে না দুদক।। দ্বিতীয় দফায় ৭ এপ্রিল প্রধান প্রকৌশলী বরাবর চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
সাউন্ড সিস্টেমের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত গণপূর্তের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায় দুদক।
চুক্তিতে নির্দিষ্ট সিওর ব্রান্ডের পণ্য ব্যবহারের কথা থাকলেও তা না করে, গণপূর্তের অসাধু প্রকৌশলীদের যোগসাজশে পুরোনো সিস্টেম মেরামত করেই ৯ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকার একটি প্রাক্কলন বিল প্রস্তুত করা হয় বলে দুদক থেকে জানা গেছে।
ভিওডি বাংলা/আরআর







