সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চান বাগেরহাটের শাহিদা আক্তার

বাগেরহাটের কচুয়াসহ জেলাজুড়ে তৃণমূল রাজনীতিতে সক্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত জেলা মহিলা দলের সভাপতি অধ্যাপিকা শাহিদা আক্তার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি এবার সংসদীয় রাজনীতিতে সরাসরি ভূমিকা রাখতে চান। কচুয়া উপজেলা থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন ইউনিটে মহিলা দলকে সুসংগঠিত করতে তিনি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, হামলা-মামলা এবং চাপের মধ্যেও দলের প্রতি তার অবিচল অবস্থান স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে তাকে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় করে তুলেছে। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শাহিদা আক্তার বলেন, “আমি সারা জীবন সাধারণ মানুষের অধিকার এবং নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করেছি। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রদান করে, তবে বাগেরহাটের অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে আমি সংসদে কথা বলতে চাই। বিশেষ করে কচুয়া ও বাগেরহাটের নারীদের সামাজিক মর্যাদা ও উন্নয়নে আমি নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও জানান, দলের হাইকমান্ড তার দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও শ্রমের মূল্যায়ন করবে-এমন প্রত্যাশা তার রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরাও মনে করেন, তার মতো অভিজ্ঞ নেত্রী সংসদে গেলে জেলা মহিলা দল আরও শক্তিশালী হবে।
বর্তমানে তিনি জেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত শাহিদা আক্তার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল তাকে সভাপতি এবং নার্গিস আক্তার ইভাকে সাধারণ সম্পাদক করে বাগেরহাট জেলা মহিলা দলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়, যা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অনুমোদন দেন। তার নেতৃত্বে জেলার ৯টি উপজেলা ও পৌরসভায় মহিলা দল সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়েছে।
গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে নারী কর্মীদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।
শাহিদা আক্তার কচুয়া উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে সুপরিচিত। শিক্ষকতা পেশার অভিজ্ঞতা তাকে প্রশাসনিক ও নীতি নির্ধারণী কাজে দক্ষ করে তুলেছে।
রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সংগঠনকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে তার নেতৃত্বগুণ উল্লেখযোগ্য। তিনি নিয়মিত প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে নাগরিক সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রাখছেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তার মনোনয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ত্যাগের কারণে শাহিদা আক্তারকে সংরক্ষিত নারী আসনের একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ







