• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

রাজারহাটে সিজারিয়ান পদ্ধতি কমায় নিরাপদ মাতৃত্বে আশার আলো

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি    ৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৯ পি.এম.
চাকিরপশার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (বামে) ও নরমাল ডেলিভারির পর মা ও শিশু। ছবি: ভিওডি বাংলা

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ছে, যা নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীনে চাকিরপশার ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের পরিবার ও স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে এ সাফল্য দেখা গেছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরে এই দুই ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২০০-এর বেশি গর্ভবতী মায়ের স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। শুধু গত মার্চ মাসেই চাকিরপশার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ৩ জন এবং ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন কেন্দ্রে ১২ জন মায়ের স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়েছে। এতে মা ও নবজাতক উভয়ই সুস্থ রয়েছে।

চাকিরপশার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পারিবারিক কল্যাণ পরিদর্শক মোছা. মুন্নি খাতুন বলেন, “গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এনে নিরাপদভাবে স্বাভাবিক প্রসব করাতে আমরা উৎসাহ দিচ্ছি।”

অপরদিকে, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পারিবারিক কল্যাণ পরিদর্শক মোছা. শাহানাজ জানান, শুরুতে অনেক নারী স্বাভাবিক প্রসব নিয়ে ভীত থাকলেও সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে এখন তাদের আগ্রহ বেড়েছে। তিনি বলেন, “একবার স্বাভাবিক প্রসব হলে এর উপকারিতা তারা বুঝতে পারেন। বর্তমানে এ কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।”

ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ এলাকার এক প্রসূতি মা খুশিমণি বলেন, “স্বাস্থ্যকর্মীদের সহযোগিতায় আমি নিরাপদভাবে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিতে পেরেছি। এখন আমি ও আমার সন্তান সুস্থ আছি। অপ্রয়োজনে সিজারিয়ান না করে স্বাভাবিক প্রসবের দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”

তবে উপজেলার অনেক গর্ভবতী নারী এখনও কুড়িগ্রাম জেলা শহরের বেসরকারি ক্লিনিকে যাচ্ছেন, যেখানে অধিক অর্থের বিনিময়ে সিজারিয়ান অপারেশন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অনেক ক্ষেত্রে মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

একটি বেসরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি হওয়া অন্তত ২০ জন গর্ভবতী নারী সিজারিয়ান অপারেশনের পর মারা গেছেন। এছাড়া প্রায় ১০টি নবজাতক বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

সিজারিয়ানের ঝুঁকি কমাতে সরকার স্বাভাবিক প্রসবের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে রাজারহাট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ উঠান বৈঠক, সচেতনতামূলক সভা ও পরামর্শ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল ও লজিস্টিক ঘাটতি রয়েছে। তারপরও দুইজন পারিবারিক কল্যাণ পরিদর্শক গত এক বছরে ২০০-এর বেশি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন করেছেন, যা প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, “২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সেবা দেওয়া হচ্ছে।”

এছাড়া গত এক বছরে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমেও অগ্রগতি হয়েছে। এ সময়ে ৮টি এনএসভি (নো-স্ক্যালপেল ভ্যাসেকটমি) এবং ৪৫টি টিউবেকটমি সম্পন্ন হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/প্রহলাদ মন্ডল সৈকত/আ


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
জাল ভোট দিতে গিয়ে আটক ৬
জাল ভোট দিতে গিয়ে আটক ৬
রাজশাহীতে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন
রাজশাহীতে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন
গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বহিষ্কার
অনৈতিক কর্মকাণ্ড গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বহিষ্কার