যুদ্ধবিরতির বিষয়ে মার্কিন রাজনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করছেন, আর ডেমোক্র্যাটরা এই সংঘাতকে ‘অবৈধ যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে জবাবদিহি দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে প্রায় ১০ ঘণ্টা আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, “একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।” এরপরই তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের অনুমতির শর্তে তেহরানও যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই ১৪ দিনের বিরতিতে তেহরান ও ওয়াশিংটন স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনা চালাবে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং কংগ্রেসের ইরান-বিষয়ক কট্টরপন্থী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, “আমি কূটনীতি পছন্দ করি এবং একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টায় জড়িত সকলের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করি।” তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং সম্পর্কিত প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন।
ট্রাম্প নিজের ঘোষণায় উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে ‘অনেকটা এগিয়ে গেছে’ এবং তেহরানের প্রস্তাবিত ১০-দফা পরিকল্পনাকে ‘আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি’ হিসেবে দেখছেন।
যুদ্ধবিরতির বিস্তারিত বিষয় এখনও অস্পষ্ট থাকলেও, ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রস্তাবিত ১০-দফায় ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে ইরানই কর্তৃত্ব বজায় রাখবে। ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও মেনে নেবে।
তবে সিনেটর গ্রাহাম জোর দিয়ে বলেছেন, “যেকোনো চুক্তি করার আগে ইরানের প্রতিটি বিষয় ভালোভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে হামলা চালিয়ে নৌচলাচলের স্বাধীনতা ধ্বংস করেছে। ভবিষ্যতে বিশ্বের বিরুদ্ধে এমন আচরণের জন্য ইরানকে পুরস্কৃত করা যাবে না, তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।”
ভিওডি বাংলা/এমএস







