ওসির পরকীয়া ফাঁস, প্রেমিকা নিজেই জানালেন আইজিপিকে

মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বর্তমানে ঢাকা পিবিআইতে কর্মরত মো. জাব্বারুল ইসলামের (বিপি নম্বর ৮৩১১১৪৩৯৬৩) বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন, ঘুষ গ্রহণ, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ নানা অভিযোগ এনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী শ্রীপুর উপজেলার সারঙ্গদিয়া এলাকার বাসিন্দা শেখ আবু সাঈদ (২৭), পিতা-শেখ আমিরুল ইসলাম সাকিম। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
তার দাবি, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেত্রী ও কথিত মাদক ব্যবসায়ী স্বর্ণালী জোয়ার্দার রিয়া তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
অভিযোগে বলা হয়, রিয়া জোয়ার্দারের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। গত ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে পরিকল্পিতভাবে শ্রীপুর থানার তৎকালীন ওসি (বর্তমানে ঢাকা পিবিআইতে কর্মরত) মো. জাব্বারুল ইসলাম (বিপি নং ৮৩১১১৪৩৯৬৩) তাকে ফোন করে থানায় ডেকে নেন। এরপর থানায় নিয়ে মারধর, হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
ভুক্তভোগী বলেন, যেদিন আমি দেখি রিয়া জোয়ার্দারের বাসার সামনে থানার গাড়ি ছিলো ও ওসি সাহেব ওই বাসা থেকে সন্ধ্যার পরে বের হয়েছেন। ওইদিন থেকে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তার বাবার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নেয়। এরপরও তাকে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয় এবং জেলেও পাঠানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদেরও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, পরিকল্পনাকারী রিয়া জোয়ার্দার তাদের এলাকায় মাদকের ব্যবসা করতেন। তার এই মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় তাকে মারধরসহ বিভিন্নভাবে হেনস্থা করা ও হুমকি দিতেন। মো. জাব্বারুল ইসলাম শ্রীপুর থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করার পর উক্ত রিয়া জোয়ার্দার তার রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রথমে সখ্যতা ও পরে অবৈধ পরকীয়া সম্পর্ক স্থাপন করেন।
এতে উল্লেখ করা হয়, উক্ত অবৈধ পরকীয়ার বিষয়টি প্রকাশিত হলে ওসি মো. জাব্বারুল ইসলামের তৎকালীন স্ত্রী মিস সোনিয়া ওসি মো.জাব্বারুল ইসলামকে তালাক দেন। আর এই পরকীয়া প্রেমের কারণেই ওসি উক্ত রিয়া জোয়ার্দারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
ভুক্তভোগী বলেন, আমি ও আমার পরিবারের লোকজন যেন রিয়া জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে কোনো কথা না বলি, তার অবৈধ মাদক ব্যবসা নিরাপদে চালাতে বাধার সৃষ্টি না করি, তার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন ও তার কথামতো কাজ না করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন রিয়া জোয়ার্দার ও ওসি মো. জাব্বারুল।
ভুক্তভোগী আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ার কারণে কোথাও বিচার চাইতে বা মামলা করতে সাহস পাইনি। বরং জান বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। বর্তমানে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন হয়েছে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ন্যায়বিচার চাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, বিধায় দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ন্যায়বিচার পাব এমন আশায় বিলম্বে হলেও অভিযোগ দায়ের করলাম।
ভুক্তভোগী লিখিত আবেদনে পুলিশের মহা পরিদর্শক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ওসি মো. জব্বারুল ইসলাম (পিবিআইতে কর্মরত বিপি নম্বর ৮৩১১১৪৩৯৬৩) এবং স্বর্ণালী জোয়ারদার রিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভিওডি বাংলা/জা







