দালাল চক্রের অমানবিক নির্যাতনে মারা গেলেন যুবক

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার দক্ষিণ ধূয়াসার গ্রামের যুবক মো. জহিরুল আকন (২৫) উন্নত জীবনের স্বপ্নে ইতালি পাড়ি দিতে গিয়ে দালাল চক্রের ভয়াবহ অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন। নিহত জহিরুল উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের শামসুল হক আকনের ছেলে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু পরিবারে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
জহিরুল আকনের স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা, ভাই ও আত্মীয়-স্বজন এই খবরে বাকরুদ্ধ। পরিবারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জহিরুল আকনের পরিবার জানান, ডাসারের দুই দালাল-তারক দাস ও জাকির মাতুব্বর-অল্প টাকা দেওয়ার প্রলোভনে লিবিয়ার পথে অবৈধভাবে ইতালিতে মানুষ পাঠাত। জহিরুল আকনও তাদের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ইতালি যাওয়ার জন্য প্রথমে ২৫ লাখ টাকা প্রদান করেন। পরে দালালরা জহিরুলকে ইতালিতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে প্রায় পাঁচ মাস আগে লিবিয়ায় নিয়ে যান।
লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে একটি অন্ধকার ‘গেম ঘরে’ আটকে রাখা হয়। সেখানে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করা হতো এবং ভিডিও কলে পরিবারকে অতিরিক্ত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হতো। এই প্রক্রিয়ায় জহিরুলের পরিবার থেকে মোট ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। হঠাৎ রাতে খবর আসে, জহিরুল আকন মারা গেছেন।
নিহতের স্ত্রী সাথী আক্তার বলেন, “আমরা দালাল চক্রের হোতা জাকির মাতুব্বরকে ২৫ লাখ টাকা দিয়েছি। দালালরা আরও দাবি করেছিল। আমাদের আরও টাকা দিতে না পারায় তারা জহিরুলকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
অভিযুক্ত দালাল তারক দাসের মা মিনতী দাস জানান, তার ছেলে ইতালিতে পৌঁছানোর জন্য লিবিয়ার পথে শতাধিক মানুষকে পাঠিয়েছে।
ডাসার থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “যদি নিহত জহিরুলের পরিবার মামলা দায়ের করে, আমরা তা নেব এবং তদন্ত শুরু করব।”
এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবপাচার ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
ভিওডি বাংলা/জা







