ট্রাম্পের ‘সভ্যতা মুছে ফেলার’ হুমকিতে তেহরানের কড়া প্রতিক্রিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক হুমকির পর তেহরান থেকে এসেছে দৃঢ় ও কঠোর বার্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি সভ্যতাকে ‘পুরোপুরি মুছে ফেলার’ হুঁশিয়ারির জবাবে ইরান জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই ভীত নয়।
মঙ্গলবার ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ বলেন, হাজার বছরের ইতিহাসে ইরানি সভ্যতা বহু শত্রুর ‘বিভ্রান্তি’ অতিক্রম করে টিকে আছে এবং জয়ী হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরান ট্রাম্পের হুমকিতে বিচলিত হবে না। শত্রুর বর্বরতার মুখেও তাদের অবস্থান অটুট থাকবে এবং দেশটি নিজেদের অভ্যন্তরীণ শক্তির ওপরই নির্ভর করছে।
এদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাইও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘‘একটি ‘সভ্য’ জাতির সংস্কৃতি, যুক্তি এবং নিজেদের ন্যায়সঙ্গত লক্ষ্যের প্রতি বিশ্বাসের শক্তি নিঃসন্দেহে পাশবিক শক্তির যুক্তিকে পরাজিত করবে। যে জাতি নিজেদের পথের বিশুদ্ধতায় পূর্ণ বিশ্বাস রাখে, তারা তাদের অধিকার এবং বৈধ স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের সমস্ত সামর্থ্য ও সক্ষমতাকে কাজে লাগাবে।’’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দিয়ে ‘মানবঢাল’ গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে। ট্রাম্পের হুমকি এবং চলমান উত্তেজনা ইরানি সরকারের মধ্যে প্রতিরোধের মনোভাব আরও জোরদার করেছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আপাতত তারা আর কোনো যোগাযোগে যাবে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাবির মধ্যে ব্যবধান কমানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ অবস্থার পেছনে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে; ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও কঠোর করতে তেল আবিব ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সামনে এখন দুটি পথ—আত্মসমর্পণ অথবা যুদ্ধ। এমন বাস্তবতায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ঘোষণা দিয়েছে, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে যেকোনো হামলার জবাবে সমানুপাতিক পাল্টা আঘাত হানা হবে।
সূত্র: আল জাজিরা।
ভিওডি বাংলা/এমএস







