রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা নিয়ে ভোটাভুটি হয় সেনাবাহিনীর ভেতরে

ওয়ান ইলেভেনে দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রধান রূপকার ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ। সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ দিকে তিনি এমন পদক্ষেপ চেয়েছিলেন—যা দেশের সেনাদের শপথের সম্পূর্ণ বিপরীত। মঈন সেনাপ্রধান থেকে এক লাফে রাষ্ট্রপতি হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অন্য জেনারেলদের বেশিরভাগ তার এই প্রস্তাবে ভেটো দিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।
জেনারেল মঈনের ধারণা ছিলো, বেশিরভাগ জেনারেলসহ উর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তারা তার সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে না। এই বিশ্বাস থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে অটুট থেকে মিশন বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি ধাপ এগোন। বিষয়টি নজরে রেখেছিলো যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো বিষয়ে মঈনের এই বিরোধপূর্ণ তৎপরতাকে ভালো চোখে দেখছিলো না আমেরিকা। মঈনবিরোধী মতের জেনারেল ও উর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তা গ্রুপটির ছায়া হয়ে পাশে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র।
একপর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয় যে, সেনাবাহিনী রাষ্ট্রক্ষমতা ধরে রাখা বা রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ভোটাভুটি করবে সেনাবাহিনীর ভেতরে। ভোটে মঈনের চরম পরাজয় হয় এবং রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্ন ফ্যাকাশে হতে থাকে।
রিমান্ডে এমন তথ্য দিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী পুলিশকে জানান, মইন উ আহমেদ রাষ্ট্রপতি হয়ে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে চেয়েছিলেন। এ ব্যাপারে গোপনে তিনি নানা প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেননি নানা কারণে। মইন উ আহমেদের কারণে তাকে সেনাবাহিনী থেকে বেরিয়ে যেতে হয় বলেও জানিয়েছেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
এদিকে সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ঢাকা বিভাগের ডিআইজি প্রিজন্স হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন মেজর শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী। সংসদ ভবনের বিশেষ কারাগারে দুই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা বন্দী থাকা অবস্থায় বিশেষ কারাগারের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এ সময় দায়িত্বের কারণে তিনি বিশেষ কারাগারে গিয়ে দুই নেত্রীর সঙ্গে প্রায়ই সাক্ষাৎ করতেন এবং কারাগারে তাদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলো সব সময় তদারকি করতেন। ডিজিএফআই কর্মকর্তারা কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন বৈঠককালে তিনি দূরে উপস্থিত থাকতেন।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এমএস







