• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সাগর-রুনি হত্যা

আলোচনা বাড়ছে মাহফুজুর রহমানকে ঘিরে

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১০ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

সাত সকালে থমকে যাওয়া রাজধানীর রাজাবাজার। একটি বাড়ি ফিরে ভীষণ ভিড়। মেঝেতে দুটি মরদেহ। পাশে তাদের একমাত্র শিশু সন্তান- নাম মেঘ, যার জীবন শুরু না হতেই সব শেষ, সব যেনো কেড়ে নিয়ে গেছে ঈশ্বর।

১২ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি খুনের পর প্রথম সকাল ছিল এটি। তাদের ভাড়া বাড়িটি ঘিরেই সব ভিড়, সব আহাজারি।  

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার ইউনিটি ডি আর ইউ নিজস্ব ক্যাম্পাসে এক প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করেছে। 

তাদের মৃত্যু দিবস ছাড়া ভিন্ন কোন দিনে সাংবাদিক সংগঠনের ডাকা প্রথম ব্যতিক্রম  সমাবেশ এটি।

যে সমাবেশ থেকে সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের দাবি এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান এবং প্রধান সন্দেহভাজন তার আপন ছোট ভাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার বিষয়টি আজকের সমাবেশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ দাবি হয়ে উঠতে পারে। নেতারাও পূর্বের মতো নয়, এবার এই প্রভাবশালী সন্দেহজনক চক্রটিকে গ্রেপ্তারে কার্যকর দাবি তুলবে, এ কথাই বলছে সাংবাদিক মহল। 

মোটা দাগে, এ সমাবেশ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে চূড়ান্ত এবং সবশেষ দাবি ও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে ডি আর ইউ ভোটে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত সভাপতি আবু সালেহ এখন এবং সাধারণ সম্পাদক হাসান সোহেলের নেতৃত্বাধীন কার্যনির্বাহী পরিষদের পক্ষ থেকে। 

এদিকে এ ইসুতে আহ্বান করা প্রতিটি কর্মসূচিতে মাহফুজুর রহমান এবং তার ভাই, কয়েকজন পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাসহ কয়েকজন চিহ্নিত সন্দেহভাজন অভিযুক্তকে আইনের মুখোমুখি করার দাবি উঠে আসছিল। পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তারা খুন পরবর্তী সময়ে মাহফুজুর রহমানকে গ্রেপ্তার এড়াতে তাদের ক্ষমতার অবৈধ প্রয়োগ করেছেন সাংবাদিকদের সহকর্মী হারানোর শোকার্ত দাবির বিরুদ্ধে।

যদিও এ সমাবেশের একদিন আগে তদন্ত সংস্থা র‌্যাব ফোর্সেসে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক দায়িত্ব গ্রহণের সাত দিন পর গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আনুষ্ঠানিকভাবে।

তবে সেখানে এ হত্যাকাণ্ডের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয় স্থান পায়নি আলোচনার এজেন্ডা হিসেবে। যে হত্যাকাণ্ডটির সকল সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে কয়েক বছর ধরে সহকর্মীরা লড়াই করে যাচ্ছেন তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের নাটকীয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।

বিশেষ করে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘসূত্রতা, তদন্তের ধীরগতি এবং নানা নাটকীয়তার কারণে ইতোমধ্যেই র‌্যাবের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। 

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের নিজ বাসা থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার হয়।
শুরুতে পুলিশ তদন্ত করলেও পরে র‌্যাবকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং দ্রুত রহস্য উদঘাটনের আশ্বাস দেওয়া হলেও এক দশকের বেশি সময় পার হলেও মামলাটির তদন্ত শেষ হয়নি।

সে সময় তাদের একমাত্র সন্তান বাসায় উপস্থিত ছিল, যা ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তোলে। বহুবার সময় বাড়ানো, কিন্তু চার্জশিট না হওয়া—এই দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে শুরু থেকেই সাংবাদিক সমাজ ও বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ও প্রশ্ন রয়েছে। বিচারহীনতার এই দীর্ঘ অপেক্ষা এখনো দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের একটি অন্যতম বড় অনিষ্পন্ন ইস্যু হয়ে আছে।

ভিওডি বাংলা/আরআর/ আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন সাংবাদিক বাছির জামাল
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন সাংবাদিক বাছির জামাল
ঈদে সংবাদপত্রে ৫ দিনের ছুটি দাবি
ঈদে সংবাদপত্রে ৫ দিনের ছুটি দাবি
কেন্দ্রীয় প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য হলেন সাংবাদিক ইমন মিয়া
কেন্দ্রীয় প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য হলেন সাংবাদিক ইমন মিয়া