মানবিক-গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দলটি অক্ষরে অক্ষরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও সাম্যভিত্তিক বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য।
তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "বিএনপি একটি ধনী দেশের চেয়ে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চায়। ঘৃণা নয়, পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়ে শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।"
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকালে রমনা কাকরাইল আর্চবিশপস্ হাউজে ইউনাইটেড ফোরাম অব চার্চেস - বাংলাদেশ আয়োজিত ইস্টার সানডে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "দেশের মানুষ এখন একটি নতুন সময়ের মুখোমুখি, যেখানে মুক্ত পরিবেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন পার করে রাষ্ট্রকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই একটি সত্যিকার মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণ সম্ভব। এ লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের কল্যাণ, কৃষকের স্বার্থরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং তরুণদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করার নানা উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।"
বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, "কৃষকদের জন্য কৃষিঋণের সুদ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড চালু, কৃষক কার্ড প্রদানের উদ্যোগ এবং খেলোয়াড়দের ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের জন্য নতুন দিগন্ত তৈরি করছে। একই সঙ্গে গ্রাম থেকে শুরু করে স্কুল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের উদ্যোগকেও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন।"
জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করে তিনি বলেন, "কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে এবং ৩১ দফা কর্মসূচির মধ্য দিয়েই সেই রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।"
সংস্কারের বিষয়ে নিজের দলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, "রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কারও বিএনপিই করেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তন আনেন।"
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, "বিএনপি রাজনীতির জন্য রাজনীতি করে না, মানুষের কল্যাণ ও দেশের পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি করে। লক্ষ্য একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।"
নিজেকে একজন উদারপন্থী গণতান্ত্রিক বিশ্বাসী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, "এই বিশ্বাস রক্ষার জন্য প্রয়োজন হলে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে আমি প্রস্তুত।"
সংগঠনের প্রেসিডেন্ট আর্চবিশপস্ বিজয় এন. ডি' ক্রুজ ওএমআই-এর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসি প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সাধারণ সম্পাদক ডেভিড অনুরুদ্ধ দাস, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য বাবু সুশীল বড়ুয়া, অ্যাড. ডন গোমেজ, ফাদার আলবার্টসহ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
ভিওডি বাংলা/সবুজ/এমএস







