পায়ে ধাক্কার জেরে ৩ বছরের শিশুকে হত্যা

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় তিন বছরের শিশু অঙ্কিত বর্মন হত্যার ঘটনায় তার চাচিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। পারিবারিক একটি তুচ্ছ ঘটনার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত চারজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত অঙ্কিতের বাবা সাগর বর্মন ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সেখানেই থাকতেন। কয়েকদিন আগে অঙ্কিতকে গ্রামের বাড়ি মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামে নিয়ে আসেন তার দাদি।
ঘটনার দিন দুপুরে অঙ্কিত বাড়ির উঠানে খেলছিল। এসময় তার দাদি পাশের বাড়িতে যান। পরিবারের অন্য সদস্যরাও বিভিন্ন কাজে বাইরে ছিলেন। কিছু সময় পর দাদি ফিরে এসে অঙ্কিতকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পাশের একটি ঘরে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন—অঙ্কিতের চাচা রাজন চন্দ্র বর্মণ (২৮), চাচি ফুলরানি বর্মণ (৪২), আত্মীয় সুকুমার বর্মণ (৫৪) এবং তার স্ত্রী মায়ারানি বর্মণ (৪৫)।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে ফুলরানি বর্মণ হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঘটনার আগে অঙ্কিত তার সন্তানের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ায়। এক পর্যায়ে ধাক্কা লাগার ঘটনায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরই জেরে শিশুটিকে আলাদা ঘরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন তিনি।
ঘটনার পরদিন অঙ্কিতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের অগ্রগতিতে জড়িতদের শনাক্ত করে পুলিশ। বুধবার অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা হলে ফুলরানি বর্মণ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত চারজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ভিওডি বাংলা/জা







