সকালে উচ্ছেদ বিকেলে কেনাবেচা:
ঢাকার ফুটপাতে পুলিশের এ কেমন অভিযান?

ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া পাঁচদিনব্যাপী এই অভিযান চলবে রোববার পর্যন্ত। আজ বৃহস্পতিবারও চলেছে অভিযান।
এদিকে বুধবার দুপুরে ২টার দিকে রাজধানীর ফার্মগেট, মগবাজার, বাংলামোটরসহ একাধিক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে হকারদের উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে ফুটপাত খালি করা হলেও দুপুর ২টার দিকে হকাররা আবারও দোকান খুলে পণ্য সাজাতে শুরু করে। চলে হরদম বেচাকেনা।
বিভিন্ন সময় ঘটা করে পরিচালিত এমন উচ্ছেদ অভিযান আগেও দেখা গেছে। পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যসহ স্থানীয় চক্রের মাধ্যমে আবারও ফুটপাতে দোকান বসেছে বিভিন্ন ধরনের। এর ফলাফল চলমান অভিযান পরিচালনাকারী ও তদারককারী ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জানেন, তবুও সেই একই ধরনের অভিযান চালাচ্ছেন তারা। যা পথচারীদের হাঁটার স্বাধীনতা নিশ্চিতসহ ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কোনো কাজেই আসছে না।
দায়িত্বশীলরা বলছেন, অভিযানের পর যাতে আবার বেদখল হয়ে না যায় সেজন্য তৎপরতা বাড়াবে ডিএমপি।

সরেজমিনে দেখা যায়, কিছু জায়গা দখলমুক্ত হলেও বেশিরভাগ জায়গা এখনও হরকারদের দখলে। কোথাও কোথাও অবকাঠামোগুলো স্তূপ করে ফুটপাতই বন্ধ রেখেছেন। আবার কোথাও ফুটপাতে বসেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন হকাররা। ফলে এখনও পুরোপুরিভাবে অভিযানের সুফল পাচ্ছেন না পথচারীরা।
রাজধানীর মগবাজার, বাংলামোটর, ফার্মগেট, ধোলাইপাড়, যাত্রাবাড়ি ফারুক সরণি, কাকলী আউটগোয়িং, মিরপুরের শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, ফকিরেরপুল, গুলিস্থানসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
একাধিক হকার জানান, দু-চারদিন অভিযান চলবে। এসময় বেচাকেনাতে একটু সমস্যা হবে। তারা আরও জানান, সকালে অভিযান চলেছে, এখন তারা দুপুরের পর দোকান খুলেবেন।
ফার্মগেট তেজগাও কলেজের সামনে ফুটপাতে ১৭ বছর ধরে কাপড়ের ব্যবসা করেন নরসিংদির আরফান হোসেন। তিনি বলেন, “সকালে অভিযান চালানো হয়েছে। আগেই খবর পেয়ে তিনি দোকান খোলেননি।” অভিযানের পরে এসে তিন দোকান খুলেছেন বলেও জানান।
তিনি বলেন, “১৭ বছর ধরে ব্যবসা করি। এ ধরনের অভিযানের অভিজ্ঞতা নতুন না। দুই-এক দিন হয়তো অভিযান চলবে, এরপর সব আগের মতোই।”
রাজধানীর বাংলামোটরে ফুটপাতে চায়ের দোকানদার আলী হোসেন জানান, সকালে পুলিশ এসে তার দোকান সরিয়ে দেয়। পরে বিকাল ৪টার দিকে তিনি আবার দোকান খুলেছেন। পুলিশ সকালে আসে। কাল থেকে দুপুরের পর দোকান তিনি দোকান খুলবেন।
এ বিষয়ে ডিএমপির সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আরিফা জাহান প্রীতি সাংবাদিকদের বলেন, “সড়ক ও ফুটপাত দখল করে থাকা হকারদের আগেই তাদের মালামাল সরিয়ে নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বুধবার অভিযানের পাশাপাশি তাদের সর্তক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে অ্যাকশন শুরু হবে।”
তিনি বলেন, “আটটি বিভাগে অভিযান চালানো হয়েছে। নিয়ম ভঙ্গকারীদের জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ফুটপাত ও সড়কে রাখা পণ্য জব্দ করা হয়েছে।”
২৩ মার্চ জারি করা ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখনও ফুটপাত ও সড়ক দখল করে আছে। এর মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, শোরুম, ওয়ার্কশপ ও ভাসমান দোকান-যারা ফুটপাত ও সড়কে পণ্য, গ্রিল, চুলা, চেয়ার ও অস্থায়ী কাঠামো বসিয়ে রাখছে। এ ধরনের দখলের কারণে পথচারীরা ফুটপাত ছেড়ে সড়কে চলতে বাধ্য হন, এতে জনভোগান্তি বাড়ে এবং যানজট সৃষ্টি হয়।
নগরবাসীর চলাচল সহজ করতে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ফুটপাত ও সড়কে রাখা যেকোনও সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
অভিযানের বিষয়ে আরিফা জাহান প্রীতি জানান, উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিনে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা জরিমানা ও ২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, মালামাল জব্দ এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/আরআর/আরকেএইচ







