আসলে জনকণ্ঠে কী হচ্ছে?

দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণ বন্ধ। বকেয়া পড়েছে বেতন। তবে কর্মীরা অফিস করছেন।
মূলত জনকণ্ঠ পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব নিয়ে মালিকপক্ষ এবং জুলাই অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক ক্ষমতার সঙ্গে লড়াই চলছে। এমন তথ্যই পাওয়া গেছে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত এবং সংশ্লিষ্ট থাকা একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করে।
মালিকপক্ষ থেকে প্রকাশনা সচল, বন্ধ কিংবা সাময়িক বন্ধ বা কোনো ধরনের কারণ দেখিয়ে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি।
আজ বৃহস্পতিবার পত্রিকাটির প্রিন্ট সংস্করণ বাজারে দেখা যায়নি। ব্রাউজ করে পাওয়া যায়নি অনলাইন সংস্করণও।
এরই মধ্যে বুধবার (১ এপ্রিল) দিনগত রাতে হঠাৎ একটি বিজ্ঞপ্তি জনকণ্ঠের মালিকপক্ষের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মূলধারার দুয়েকটি গণমাধ্যমও ‘জনকণ্ঠ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা’ তথ্য দিয়ে অনলাইন ভার্সনে খবর প্রকাশ করে। ছড়িয়ে পড়া বিজ্ঞপ্তিকে অস্বীকার করেছে মালিকপক্ষ।
পত্রিকাটির একজন কর্মী ভিওডি বাংলাকে বলেন, ওইসব খবর প্রকাশের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে মালিকপক্ষ।
আজ এ বিষয়ে ভিওডি বাংলা জনকণ্ঠে কর্মরত একাধিক সংবাদকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে, জনকণ্ঠে অস্থিরতা শুরু হয় ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার পটপরিবর্তন থেকেই। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে জনকণ্ঠের দখল নেন রাজনৈতিক দল ‘এনসিপি’র একটি গ্রুপ। তারা দখল নেওয়ার দিন পত্রিকাটির প্রকাশক প্রয়াত আতিকুল্লাহ খান মাসুদের স্ত্রী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মিডিয়া উইংয়ের একজন কর্মকর্তাকে ফোন করে ঘটনা অবহিত করে ন্যায়বিচার চেয়েছিলেন। সেই ফোনকলের রেকর্ডও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জনকণ্ঠে কর্মরত ৪ জন সিনিয়র রিপোর্টারের সঙ্গে কথা বলে ভিওডি বাংলা। তারা জানান, অনলাইন ও প্রিন্টিং প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে। তবে কর্মীরা অফিস করছেন। মালিকপক্ষ বলছেন, তারা প্রকাশনা বা অনলাইন—অর্থাৎ পত্রিকাটির কোনো ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেননি। বরং অনলাইনে কিছু কারিগরি ত্রুটি রয়েছে এবং প্রিন্ট ভার্সনে কিছু পরিবর্তন আনাসহ কর্মী ছাঁটাই, নিয়োগ ও রদবদলের জরুরি প্রয়োজন পড়ায় এসব কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রকাশনা ও অনলাইন সংস্করণ বন্ধ রাখা হয়েছে। শিগগিরই নতুন কলেবরে বাজারে ফিরছে জনকণ্ঠ। অনলাইন ভার্সনেও আসছে ব্যাপক পরিবর্তন, যুক্ত হচ্ছে আধুনিকায়নের ছোঁয়া।
পত্রিকাটির মালিকপক্ষ এবং বার্তাকক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পহেলা বৈশাখ থেকেই নতুনভাবে জনকণ্ঠ পাঠকের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মীদের মধ্যে চাকরি ও বকেয়া বেতন নিয়ে অনিশ্চয়তাসহ অন্য কোনো জরুরি কারণ সামনে না এলে আসন্ন বাংলা নববর্ষে ঘুরে দাঁড়ানো নতুন রূপে প্রকাশ পাবে জনকণ্ঠ। তবে পুরনো কর্মীদের মধ্যে বিশেষ একটি অংশ ছাঁটাই হতে পারে।
তবে জনকণ্ঠ পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব নিয়ে মালিকপক্ষ এবং জুলাই অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক ক্ষমতার সঙ্গে যে লড়াই চলছে, তাতে কে জয়ী হবে এবং লড়াই শেষে কার হাতে যাবে জনকণ্ঠের নিয়ন্ত্রণ—তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না বলে জানান দীর্ঘদিন ধরে পত্রিকাটিতে কর্মরত একজন অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক।
সব মিলিয়ে, শেষ পর্যন্ত কার নেতৃত্বে চলবে জনকণ্ঠ—তা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় পত্রিকাটিতে কর্মরত সাংবাদিক, কলাকুশলীসহ শতাধিক কর্মী।
ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস







