• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

চৌধুরী আলম গুমেও আড়িপাতার কারিগর মামুন খালেদ

রুদ্র রাসেল    ১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৬ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় দফা রিমান্ডেও ধীর-স্থীরভাবে প্রশিক্ষণ অনুযায়ী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবির) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ মোকাবেলা করছেন ওয়ান-ইলেভেনের সময়কালের লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ। যিনি বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম গুমেও জড়িত এবং গুমের আগে চৌধুরীর ফোনে অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মকর্তা নিজেই আড়ি পাতেন বলে তথ্য রয়েছে জিজ্ঞাসাবাদকারীদের কাছে।
  
গোয়েন্দা পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মামুন খালেদ খুবই চতুর। গুমের বিষয়ে মুখ খুলতে চান না। প্রথম দফার রিমান্ডেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার হত্যায় তার ভূমিকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম এবং ইলিয়াস আলী গুমের বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়। তবে তিনি এদিক ওদিক ঘুরিয়ে জবাব দিচ্ছেন। উচ্চপর্যায়ের- এমনকি সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন সেলের জিজ্ঞাসাবাদ মোকাবেলার জন্য গ্রহণ করা প্রশিক্ষণ অনুযায়ী প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন তিনি। শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কি কি কথা হয়েছিলো। অবসরের পরেও কেন গণঅভ্যুত্থানে ফোনে আড়ি পাতার মতো অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পেছনে তিনি ভূমিকা রাখেন- সেসব প্রশ্নের একটি উত্তর দিচ্ছেন তিনি, বলছেন- ‘পরিস্থিতি’।

এদিকে দ্বিতীয় দফার রিমাণ্ডে প্রথম দফার তুলনায় অনেকটা খোলাসা জবাব দেওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তারাও মামুন খালেদ পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তাকে কোন আচরণে, কি কি প্রশ্ন বা মুডের মাধ্যমে পেট থেকে কথা বের করা যায়, সেই কৌশল আরও সহজ করতে নতুন কৌশল নির্ধারণ ও প্রয়োগ করছেন দফায় দফায়। 

মামুন খালেদ ন্যাশনাল মনিটরিং সেন্টারের (এনএমসি) নীতিনির্ধারক ছিলেন। ২০০৮ সালে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) আওতাধীন গড়ে ওঠা মোবাইলফোন আড়িপাতার কারিগর বলা হয় তাকে।  এনএমসি পরবর্তীতে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারে (এনসিএমসি) রূপান্তর হলে তারও দায়িত্বে ছিলেন ডিজিএফআইর সাবেক এই মহাপরিচালক। ক্ষমতার অপব্যবহার করেন তৎকালীন সরকার প্রধানের একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবেও কাজ করেন শেখ মামুন।
 
গত বুধবার রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর প্রথম দফায় ৫দিন এবং দ্বিতীয় দফায় ৬দিনের রিমান্ডে রয়েছেন মামুন খালেদ। 

এদিকে মঙ্গলবার আদালতে দ্বিতীয় দফার রিমাণ্ড শুনানীর শুরুতে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আদালতকে বলেন, 'এই আসামি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করেছেন। এর পুরস্কার হিসেবে তিনি ডিজিএফআইয়ের পরিচালক পদসহ নানা ব্যবসায়িক সুবিধা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। শেখ হাসিনার সব অপকর্মের সহযোগী হওয়ার কারণেই তাদের এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আর কারা জড়িত তা উদ্ঘাটনে তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।'

এর বিপরীতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, 'মামুন খালেদ ৩০ অক্টোবর ২০২১ সালে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। একজন ব্যক্তি অবসরে যাওয়ার পর তার কোনো আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার থাকে না।'

এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী পুনরায় বলেন, 'তিনি (মামুন) শেখ হাসিনার জন্য কাজ করেছেন, যে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। ফ্যাসিস্ট সরকারকে টিকিয়ে রাখতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। অনেক যোগ্য অফিসারকে বঞ্চিত করে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি অবসরে যাওয়ার পরও তিনি হাসিনার হয়ে কাজ করেছেন।'

এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হাত উঁচু করে কথা বলার অনুমতি চান মামুন খালেদ। বিচারক অনুমতি দিলে তিনি আদালতকে বলেন, 'আমাকে পাঁচ দিন রিমান্ডে ইতোমধ্যে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হয়েছে। এর চেয়ে বেশি আর কী জিজ্ঞেস করার দরকার পড়ে? নতুন করে আর কী করা হবে? আমার ২৪ বছরের ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে গেছে। ২৪ বছরের সম্মান ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।'

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/আর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আ’লীগ ১৪ বছরে ১০ দেশে পাচার করেছে ২৯ লাখ কোটি টাকা
আ’লীগ ১৪ বছরে ১০ দেশে পাচার করেছে ২৯ লাখ কোটি টাকা
তরুণদের সুরক্ষায় ই-সিগারেট নিষিদ্ধের ধারা বহাল রাখার আহ্বান
তরুণদের সুরক্ষায় ই-সিগারেট নিষিদ্ধের ধারা বহাল রাখার আহ্বান
আওয়ামী আমলের অর্থপাচার-দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
আওয়ামী আমলের অর্থপাচার-দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী