শেখ রবিউল আলম:
বৃক্ষরোপণকে সামাজিক নয়, ব্যক্তি আন্দোলনের রূপ দিতে চাই

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে গৃহীত এ কর্মসূচিকে ব্যক্তি পর্যায়ের আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি।
বুধবার (১ এপ্রিল) সরকার ঘোষিত আগামী “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির” আওতায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কর্তৃক পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে হতে মাদানী এভিনিউ পর্যন্ত সংযোগ সড়কে (জলসিড়ি আবাসন সংলগ্ন) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, এটি সরকারের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি এবং একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “বৃক্ষরোপণকে আমরা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বা সামাজিক কর্মসূচি হিসেবে দেখতে চাই না; বরং এটিকে ব্যক্তি পর্যায়ের আন্দোলনে রূপ দিতে চাই। দেশের প্রতিটি দপ্তর, মন্ত্রণালয়, সংস্থা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কেবল একটি সূচনা মাত্র-এটি যেন কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং আজ থেকেই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন দেশের সকল সড়ক ও মহাসড়কে বাস্তবভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক পরিহার করে সাশ্রয়ী, অনাড়ম্বর এবং কার্যক্রমবান্ধব পদ্ধতিতে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।
সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, “কার্যক্রমবান্ধব বলতে আমরা বুঝি-যে এলাকায় যে গাছ ভালো জন্মায়, সেই গাছ নির্বাচন করা, উপযুক্ত মানের চারা ব্যবহার করা এবং রোপণের পর সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। আমরা চাই না শুধু গাছ লাগিয়ে দায়িত্ব শেষ করা হোক; বরং আমরা চাই, ১০০টি গাছ লাগালে অন্তত ৮০ থেকে ৮৫টি গাছ যেন টিকে থাকে এবং পূর্ণতা পায়।” এসময় গাছের পরিচর্যা, সুরক্ষা এবং নিয়মিত তদারকির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচিকে সফল করতে হলে এটিকে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের অংশ করে তুলতে হবে। যেমন, পরিবারে নতুন সদস্য আগমন, কোনো সুসংবাদ বা আনন্দঘন মুহূর্তে যদি প্রতিটি পরিবার কয়েকটি করে গাছ লাগায়, তাহলে খুব অল্প সময়েই আমরা একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি তাদের পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনদেরও এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার কথা জানান তিনি। এতে করে একটি বৃহৎ সামাজিক সচেতনতা তৈরি হবে এবং কর্মসূচিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিস্তৃত হবে।
পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রয়োজনীয় বনভূমির ঘাটতি রয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে এ বছর ৫ কোটি এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ওপর বর্তায়। মন্ত্রী আরও জানান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক, সংযোগ সড়ক এবং নতুন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পসমূহে যেখানে যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই কর্মসূচি সফল হবে। “এতে করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র-সবারই উপকার হবে এবং আমরা একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব”-বলেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি” গ্রহণ করা হয়েছে, যা একটি টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগকে সফল করতে হলে কেবল সরকারি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কর্মসূচিটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, যাতে প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসে।
ভিওডি বাংলা/জা







