• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
টপ নিউজ
সংসদ অধিবেশনেও দায়িত্বে সচেতন: পত্রিকায় চোখ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের স্বনির্ভর করে তোলা হবে: মির্জা ফখরুল সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬ দিন ক্লাস, ৩ দিন অনলাইনে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত রাজনীতি মুক্ত ক্রীড়াঙ্গন চান প্রধানমন্ত্রী: মির্জা ফখরুল নৌপরিবহনের সকল প্রতিষ্ঠানকে জনবান্ধব করার নির্দেশ মন্ত্রীর অ-মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিতে জোরালো পদক্ষেপ: মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী একমাসের মধ্যে চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কার করা হবে: প্রশাসক পহেলা বৈশাখ ঘিরে ইলিশের বাজারে সিন্ডিকেট, কারসাজিতে দামে অস্থিরতা

রাষ্ট্রপতির আদেশকে ‘অবৈধ’ বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩১ মার্চ ২০২৬, ১১:০২ পি.এম.
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ জাতির প্রতারণার দলিল হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার বৈধতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ।   

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জুলাই সনদের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘এই আদেশটা রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ না হওয়ার কারণে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হলেও সংসদের প্রথম দিনে এই আদেশ তো উপস্থাপন করা হলো না। কারণ এটা না হয় অধ্যাদেশ নহে আইন। আমি সেজন্য বলেছিলাম এটা হয়তো কোন নিউট্রাল জেন্ডার হতে পারে। এই আদেশটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্তহীন একটি প্রতারণার দলিল।’

‘এই আদেশের ১০ ধারা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের যে অধিবেশন আহ্বান করার কথা আমাদের মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা উত্থাপন করেছেন সেইটা ফ্যাক্ট ইস্যু সম্পর্কে আমি আজকে বলে ফেললাম। যে আদেশটার অনুকুলে আমরা দাবি করছি সেটা তো একটা অবৈধ আদেশ। অসাংবিধানিক আদেশের অনুকূলে বেআইনি কোন আদেশের মাধ্যমে কোন কিছুই বৈধতা পেতে পারে না।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এই স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর প্রতিটি অক্ষর শব্দ বাক্যকে ধারণ করে বাস্তবায়নের জন্য জাতির কাছে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমরা জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে জুলাই ছাত্রগণ অভ্যত্থানের ২০২৪ এর শহীদের আকাঙ্ক্ষা এবং জাতির প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

এদেশের জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার সমর্থন করে শতকরা ৫১% ভোট দিয়ে তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে বিএনপিকে’ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকারি দল বিরোধী দল সবাইকে নিয়ে মহান জাতীয় সংসদে সমঝোতার ভিত্তিতে আলাপ মধ্য দিয়ে সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংশোধনী আনতে চাই।’

‘বাংলাদেশের মানুষের বিশাল জনপ্রত্যাশার প্রতি আমরা সকলেই দায়বদ্ধ। তাই আমি আহবান জানাচ্ছি , আসুন আমরা সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ঐতিহাসিক অঙ্গীকার প্রতিপালন করি।’

সংসদ নেতার পক্ষে প্রস্তাব রেখে তিনি বলেন, ‘সেজন্য আমি আজকে এই মহান জাতীয় সংসদে প্রস্তাব রাখছি… অন বিহাফ অফ আওয়ার লিডার অফ দি হাউস জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল রাজনৈতিক দলের এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান। সংশোধনের জন্য একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হোক।’

‘উক্ত কমিটিতে আমরা সকলে মিলে আলাপ-আলোচনা করে সমযোতার মাধ্যমে জনপ্রত্যাশিত সংবিধান সংশোধনী বিল এই মহান জাতীয় সংসদে উত্থাপন করি এবং সেটা সমঝোতার মাধ্যমে আমরা গ্রহণ করি।’

এই সময়ে সরকারি দলের সাংসদরা টেবিল চাপড়িয়ে এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর তার বক্তব্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির এখতিয়ার আছে কিনা তা সংবিধানের বিধি-বিধান তুলে ধরে ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, ‘‘ রাষ্ট্রপতি ৭২ অনুচ্ছেদ অনুসারে যে সংবিধানের মানে বিধান অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী এই মহান জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন স্থান এবং সময় নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের কি কোন অস্তিত্ব এখন আছে যে রাষ্ট্রপতি কোন বিধান বলে এই অধিবেশন আহ্বান করবেন?”

আমরা যেটা এখানে দাবি করছি সেটা তো একটা অবৈধ আদেশ।

রাষ্ট্রপতির এই আদেশ কেনো অবৈধ তা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘এখন যদি এটার পোস্টমর্টেম করতে চাই রাষ্ট্রপতির এই আদেশ কেন অবৈধ তার যুক্তিসমূহ একটু বলি। ৭ এপ্রিল ১৯৭৩ সাল এই তারিখ থেকে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা রোহিত করা হইল। সংবিধানে চতুর্থ তফসিলের ১৭ দফার ২ দফার শেষ প্যারা।’

‘রাষ্ট্রপতির কোন আদেশ এবং অধ্যাদেশ দ্বারা পরবর্তী সংসদের সার্বভৌম এখতিয়ারকে খর্ব করতে পারেন না কেন। পারেন না ? আর্টিকেল সেভেন …রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই জনগণের সার্বভৌমত্ব এখতিয়ার প্রয়োগের মাধ্যমে এই সংবিধান হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন…. এটা হচ্ছে সুপ্রিমিসি অব দা কনস্টিটিউশন, সুপ্রিমিসি অব দা হাউজ। ফ্যাসিস্ট আমলে দুইটা ধারা যুক্ত করেছিল সেভেন এ এন্ড সেভেন বি… যেগুলো আনকনস্টিটিউশনাল ডিক্লেয়ার হয়েছে, নাল এন্ড ভয়েড হয়েছে,আল্ট্রাভায়োলেসি কনস্টিটিউশন ডিক্লেয়ার হয়েছে। বলা হয়েছে ‘নন এস্ট’ মানে ‘ইট ওয়াজ নট দেট’ হাইকোর্টে এখনো পর্যন্ত আপিল হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহন, সংবিধান পরিষদের অধিবেশন আহবান, সংবিধান সংস্কার অবিলম্বে কার্যকর করা… একটা মহামান্য সম্রাটের আদেশ জারি হয়ে গেল ১৮০ দিনের ভিতরে বিধান সংশোধন হয়েছে বলে ধরিয়ে লওয়া হবে। তাহলে জনগণের অধিকার কোথায়? সুপ্রিমিসি কোথায়?

‘জনগণ ৫১% ভোট দিয়ে কনস্টিটিউশনাল ম্যান্ডেটে নির্বাচিত করেছে এই সংসদ সদস্যদের। প্রশ্ন আসছে ওই পক্ষ থেকে তাহলে ৭০%  কি হবে। এই ৭০% এর একটা ফায়সালা হবে। জনগনের রায়কে আমরা সম্মান করতে চাই। কিন্তু ৭০% তো দেয়ার কথা ছিল মাননীয় স্পিকার জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে আছে কি নাই সেটার উপর।’

রাষ্ট্রপতির আদেশ এখতিয়ার বর্হিভূত উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বতীকালীন  সরকার মৌলিক কোনো সংশোধনের অধিকার রাখে না। তারা কিভাবে আদেশ জারি করে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে।’

‘আমি তখন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে কথা বলেছিলাম যে, মহামান্য আপনি কি আদেশ জারি করতে পারেন? বললেন, আমি তো পারি না কিন্তু আমাকে পারাচ্ছে। তো এখন রাজহংসকে জোরপূর্বক স্বর্ণের ডিম পাড়তে বাধ্য করার মতো ঘটনা। যাই হোক এখন সেটা অবৈধ ডিম্ব হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অস্তিত্বহীন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোন বিধান না থাকার পরেও  এখানে মাননীয় সদস্য বোধহয় ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, এই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার ফর্ম আমি পটুয়াখালী থেকে আনি নাই। এখানে কে সাপ্লাই করলো? আমি একমত।’

‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অফিস থেকে এই ফর্ম এখানে জাতীয় সংসদে দেয়ার এখতিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনের নাই। তিনি শপথ নিয়েছেন তফসিল ১৪৮  অনুচ্ছেদের অনুবলে তফসিল ৩ এ। সংবিধান সংরক্ষণের জন্য তিনি শপথ নিয়েছেন। তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন, সংবিধান লংঘন করেছেন। কেউ একজন সিভিল রাইট হিসেবে মামলা করেছে ওখানে পক্ষভুক্ত করে নাই নির্বাচন কমিশনকে। কিন্তু ভার্ডিক যদি আসে নির্বাচন কমিশন যে এটা ভায়োলেট করেছে এটা আসবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এখানে বলা ঠিক না যেহেতু উনি অনুপস্থিত ….এটা বিধান নাই সেজন্য ঘুরিয়ে বলছি… আপনি সংবিধান সংরক্ষণের জন্য শপথ নিয়েছেন এই ফর্ম আপনাকে দাখিল করা জাতীয় সংসদ সচিবের কাছে পৌঁছে দেয়ার কি এখতিয়ার কে দিয়েছে কোন আইন বলে পেয়েছেন?’

‘জাতীয় সংসদের সচিব এখানে উপস্থিত আছেন বলতে পারি। ভায়োলেশন তো হবে না। তিনি সেই ফর্মটা আমাদের কাছেও পাঠালেন উনাদের কাছেও পাঠালেন আমরা তখন আমাদের নেতৃবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করে বললাম, আমরা তো আজকে শপথ নিতে যাব এখানে তো দুইবার শপথ নিতে হবে দেখা যাচ্ছে… প্রথমবার শপথ নেয়ার পরে দ্বিতীয়বার শপথ নিলে তো আগেরটা ভাইলেশন হয়ে যাবে। এখন কি করবেন? উনি বললেন, আমি তো এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। ব্যালেটের মধ্যে একটা ধানের শীষ ছিল, আরেকটা কোদাল মার্কা ছিল, আরেকটা কি কি যেন ছিল, দাড়ির পাল্লা ছিল…. শাপলাও ছিল…. উনি বললেন যে ব্যালেটে তো এখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা কোন ব্যালেট ছিল না। এখানে এমপি নির্বাচিত হওয়ার জন্য কনস্টিটিউশনাল ম্যান্ডেট হিসেবে নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের নির্বাচনে একটা ব্যালেট দিয়েছে। সেখানে আমরা সিলসিল দিছি। আর একটা গণভোটের ব্যালট ছিল।’

ভিওডি বাংলা/সবুজ/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ
লোডশেডিং শঙ্কা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ
স্বাধীনতার পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি
সংসদে জামায়াত আমির স্বাধীনতার পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী