ছয় স্তরের নিরাপত্তার ভেতর কেমন আছেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লীতে কেমন আছেন- তা জানতে কৌতুহলের অন্ত নেই বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের।
আসলে দিল্লীতে কেমন আছেন শেখ হাসিনা? তা জানতে সম্প্রতি ভিওডিবাংলা কথা বলেছে একাধিক প্রবাসী এবং গ্রেপ্তার এড়াতে প্রবাসে পলাতক ও পাড়ি জমানো কয়েকজন নেতার সঙ্গে।
জানা গেছে, দিল্লীতে অন্তত ৬ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভেতরে শেখ হাসিনার বসবাস। তবে দিল্লী তার বসবাস ও ফোনালাপ নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অনুমান করা গেলেও সে বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো প্রমাণ বা নথি নেই ভারত সরকার ছাড়া কারও কাছে।
সূত্রগুলো বলছে, দিল্লীতে যে এলাকায় শেখ হাসিনা বাস করছেন, সেই এলাকা সাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। ৬ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে হাইলি ট্রেইন্ড কমান্ডো এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনার সঙ্গে বসবাসকারীরা এবং তার সঙ্গে সাক্ষাতকারী ও ফোনালাপসহ দর্শনার্থীদের চলাফেরাও সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।
একটি সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনা একাধিক মোবাইল ব্যবহার করছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নিজে যে মোবাইল ব্যবহার করেন- সেটা যুক্তরাজ্যের একটি মোবাইল নম্বর। যে নম্বরটি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে ভিপিএন একটিভ করে ভার্চুয়াল অবস্থান সৃষ্টি করে নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। প্রতি দুই সপ্তাহে ৭ জন নেতা-কর্মী দেখা করার সুযোগ পান। ভারতে পালিয়ে থাকা নেতা-কর্মী ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা নেতাকর্মীরা প্রতি ১৫ দিনে একবার দেখা করা সুযোগ পাচ্ছেন। তবে একবারে ৭ জনের বেশী দেখা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছেনা। সেই প্রক্রিয়াও নিরাপত্তায় ঘেরা।
সম্প্রতি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন এমন একজন নেতা বলেন, অন্তত ১ মাস আগে সিভিসহ সকল তথ্য নিরাপত্তায় থাকা ভারতীয় সংস্থার হাতে দিতে হয়। সকল ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার পর, শেখ হাসিনার অনুমতি সাপেক্ষে দেখা করার সুযোগ পাওয়া যায়। তবে শেখ হাসিনার অবস্থান করা স্থান কোনোভাবেই সাধারণের পক্ষে নির্নয় করা সম্ভব নয়। তবে তিনি কোনো এক বিশেষ বাহিনীর এরিয়ার ভেতরেই থাকেন বলে অনুমান সাক্ষাত শেষে ফিরে আসা একাধিক নেতার।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দেখা করতে যাওয়ার সময় ৬ জায়গায় দর্শনার্থীদের দেহ ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এই নিরাপত্তার বিষয়টি পুরোটাই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দেখভাল করা হয়। শেখ হাসিনার থাকা-খাওয়া-চিকিৎসা-নিরাপত্তা সব কিছুই ভারত সরকারের পক্ষ থেকেই হচ্ছে।
এ পর্যন্ত শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করে ফিরে আসা নেতাদের ভাষ্য, শেখ হাসিনা দলের একক নেতৃত্ব নিজের কাছেই রাখতে চান। দলের নেতৃত্ব নতুন কারোর হাতে দিতে একেবারেই রাজি নন তিনি। এমনকি তিনি ছাড়া কেউ কোনো বিবৃতি দিক এটাও তিনি চান না। শেখ হাসিনার ধারণা-আরেকটা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ভেতর দিয়ে খুব শিগগিরই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রবেশ করবে।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ







