৫৫ বছরেও স্বাধীনতার স্বপ্ন অধরা রয়ে গেছে: আবদুস সালাম

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, সেই স্বপ্ন এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তবে এ বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক নানা কারণ রয়েছে, যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ জাসদ আয়োজিত মহান স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে "জাতির প্রত্যাশা" শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতিতে নানা বিচ্যুতি ঘটেছে। বিশেষ করে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পরবর্তী সময়ের ঘটনাপ্রবাহ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির হাতে যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থাকত, তাহলে দেশের চেহারা ভিন্ন হতে পারত।
আলোচনা সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরা এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া সমাজতন্ত্র বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই দেশের অগ্রগতির জন্য আগে গণতান্ত্রিক ধারা শক্তিশালী করতে হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে জনগণের আস্থা ফিরে আসে।”
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুস সালাম বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে সময় দিতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম কিছু বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
জাসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আগে পাকিস্তানি উপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর ও আল শামস গণহত্যা চালিয়ে বাঙালিদের দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল। এর বিপরীতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই থেকে মুক্তিযুদ্ধ গড়ে ওঠে, যা মূলত একটি জনযুদ্ধ ছিল। ২৫ মার্চের পর কয়েক মাস নিরস্ত্র সাধারণ মানুষই প্রতিরোধের প্রধান শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখে, ফলে শহীদের সংখ্যা বেশি হয়।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ১৯৭২ সালে হঠাৎ তৈরি হয়নি; ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ধারাবাহিক গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে তা বিকশিত হয়েছে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী, বাঙালি ধনিক শ্রেণী ও সাধারণ জনগণের লক্ষ্য এক ছিল না—এই বাস্তবতা না বোঝার কারণেই স্বাধীনতার পর জনগণের প্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান, জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ার ইসলাম বাবু, জাকসুর সাবেক জিএস ডা. মোস্তাক হোসেন প্রমুখ।
ভিওডি বাংলা/খতিব/এমএস







