• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

আরেকটি পদ্মা সেতুসহ ৩ মেগা প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৫ পি.এম.
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া প্রান্তে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু-ছবি: সংগৃহীত

দেশের যোগাযোগ খাতে বড় ধরনের রূপান্তর আনতে তিনটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই পরিকল্পনার আওতায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, যমুনা নদীর ওপর আরেকটি সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে একটি আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সেতু বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের নথি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। গত ১ মার্চ অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রাক্কলন এবং পরবর্তী দুই অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে এসব মেগা প্রকল্পের সময়সীমা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া সংযোগে প্রায় ৪ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বহুমুখী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সেতুটি নির্মিত হলে জাতীয় মহাসড়ক এন৫ ও এন৭-এর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে। ফলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

এছাড়া বেনাপোল ও দর্শনার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর এবং মোংলা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও কম খরচে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই বা প্রাথমিক সমীক্ষা নতুন করে শুরু হয়েছে।

সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ একটি গণমাধ্যমকে বলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং এই সেতু নির্মাণ বিষয়ে এই সেতু নির্মাণ বিষয়ে প্রাইমারি স্টাডি (সমীক্ষা) শুরু হয়েছে। যদিও আগের একটি স্টাডি রয়েছে, তবুও এখন নতুন করে স্টাডি করতে হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এ সেতু নির্মাণে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ ও আরিচা-নগরবাড়ি নির্ধারিত থাকলেও—স্টাডি সম্পন্ন হওয়ার পর এটি চূড়ান্ত করা হবে। স্টাডি করার পর বোঝা যাবে, কোথায় করলে সেতুটি লাভজনক হবে।

অন্যদিকে, বিদ্যমান যমুনা সেতুর ওপর বাড়তি চাপ কমাতে নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে যমুনা সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা হয়েছে, কিন্তু মূল সেতুটি চার লেন হওয়ায় সেখানে প্রায়ই যানজট তৈরি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০৩৩ সালের মধ্যে যমুনা নদীর ওপর বিকল্প সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য তিনটি রুট-বগুড়া-জামালপুর করিডোর, গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ঘাট এবং আরও একটি সম্ভাব্য রুট-নিয়ে সমীক্ষা চলছে। চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণের পর সেতুর দৈর্ঘ্য ও ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।

সচিব জানান, সংযোগ সড়কগুলো ছয় লেনে উন্নীত হওয়ার ফলে দ্রুতগতির যানবাহন সেতুর কাছে এসে ধীর হয়ে পড়ছে, যা যানজটের মূল কারণ। এ কারণে নতুন সেতুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

এদিকে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত করিডোর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে। ক্রমবর্ধমান এই চাপ সামাল দিতে একটি আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সেতু বিভাগ।

যদিও সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ বর্তমান সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে, তবে সেতু বিভাগ দ্রুতগতির যান চলাচলের জন্য আলাদা একটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করতে চায়। এই উড়াল সড়কটি পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানিতে গতি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই এক্সপ্রেসওয়েকে দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ‘আউটার রিং সার্কুলার’-এর মাধ্যমে এটি মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি বৃহৎ মাস্টারপ্ল্যানও রয়েছে।

সেতু বিভাগের আওতায় বর্তমানে চলমান ও ভবিষ্যৎ মিলিয়ে মোট ৫৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে নতুন মেগা প্রকল্পগুলোর জন্যই বরাদ্দের বড় অংশ, প্রায় ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা, প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/জা

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
হাইওয়ের পাশে টিকিট কাউন্টার থাকবে না: সড়কমন্ত্রী
হাইওয়ের পাশে টিকিট কাউন্টার থাকবে না: সড়কমন্ত্রী
হামের টিকা কিনতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ
হামের টিকা কিনতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ
সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিনের বাসায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল
সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিনের বাসায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল