কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা

উত্তেজনাপূর্ণ বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেই কৃষ্ণসাগরে তুরস্ক-পরিচালিত একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন খাতে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে দেশটির পরিবহনমন্ত্রী আবদুল কাদির উরালুগ্লু জানিয়েছেন, হামলার সময় জাহাজটিতে থাকা তুরস্কের ২৭ জন নাবিক নিরাপদে আছেন এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তুরস্কের আরেক সংবাদমাধ্যম এনটিভির তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটির মালিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠান বেসিকতাস হলেও এটি সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল জাহাজটি।
আবদুল কাদির উরালুগ্লু বলেন, “আমাদের ধারণা, জাহাজের ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলাটি আকাশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে নয়, বরং একটি চালকবিহীন নৌযান (আনম্যানড সারফেস ভেহিকল) দিয়ে করা হয়েছে।”
হামলাটি তুরস্কের জলসীমার ভেতরে ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, বসফরাস প্রণালি থেকে ৩০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে এই ঘটনা ঘটেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, “এটি বাইরে থেকে ঘটানো কোনো বিস্ফোরণ বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে জাহাজের ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে এ হামলা করা হয়েছে, যাতে জাহাজটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।”
ঘটনার পরপরই প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও নিরাপত্তা ইউনিট পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে তুর্কি পত্রিকা ইয়েনি শাফাক জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। কৃষ্ণসাগর সাধারণত জ্বালানি তেল ও শস্য পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। এমন একটি ব্যস্ত নৌপথে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ ইতোমধ্যে পঞ্চম সপ্তাহে পৌঁছেছে। এই সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এমন উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটেই কৃষ্ণসাগরের এই হামলার ঘটনা ঘটল।
ভিওডি বাংলা/এমএস







