• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ঈদ নিরাপত্তা

পুলিশের প্রশংসায় দুই তৃতীয়াংশ নাগরিক, বাকিরা বলছেন ‘যথেষ্ঠ নয়’

ইসমাইল হোসেন    ২১ মার্চ ২০২৬, ১০:৪০ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে  নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফাঁকা ঢাকা পাহারা দিচ্ছেন পুলিশ ও গোয়েন্দাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৫ হাজার সদস্য। শনিবার ঈদের দিন রাজধানীতে বড় ধরনের অঘটনের বা অপরাধ ঘটার খবর পাওয়া যায়নি।  

নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জে এ বছর ঈদে পুলিশ অনেকাংশে সফল বলে মনে করেন ঢাকায় ঈদ উদযাপনকারীদের এক তৃতীয়াংশ। তারা এই ঈদে চেকপোস্টের নামে হয়রানি না হওয়া, বড় ধরনের ছিনতাই না ঘটাসহ চলাচলে বাধাহীন ও ভয়মুক্ত পরিবেশ অব্যাহত রয়েছে- দাবি করে পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বলেন, ঈদকে শঙ্কাহীন ও নিরাপদ করেছে পুলিশের তৎপরতা। বেশিরভাগ বাসিন্দা বলছেন, ঈদে আইনশৃঙ্খলা ভালো। 

এ বিষয়ে শনিবার পর্যন্ত কয়েকদিনে অন্তত ৩৬ জন নাগরিকের সঙ্গে ঈদ নিরাপত্তা, পুলিশের তৎপরতাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলে ভিওডিবাংলা।  এদের ২৪ জন অর্থাৎ দুই তৃতীয়াংশ বা তিন ভাগের দুই ভাগ পুলিশের ঈদকেন্দ্রীক চলমান কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাকি ১২ জন নাগরিক মত দেন যে, ‘পুলিশের নিরাপত্তা বা তৎপরতা যথেষ্ঠ ছিল না। নগরী শতভাগ নিরাপদ ছিলেঅ না।’

তবে ঈদের দুদিন আগে উত্তরায় ছিনতাইকারীর হেচকা টানে রিকশা থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে এক নারীর মৃত্যু, শুক্রবার হারিঝিল থানা এলাকায় ছুরি মেরে এক স্কুল ছাত্রকে হত্যা, সদরঘাটে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় লঞ্চের ধাক্কায় জামাইয়ের মৃত্যু, শ্বশুড়ের তিনদিন ধরে বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ থাকা, নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্যেজেলার যোগােযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ছাড়া বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটেনি। এ সময় সার্বজনীন উৎসবে রূপ নেওয়া ঈদ আনন্দে মেতে উঠেছিলেন সপরিবারে, স্বজনের সঙ্গে। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদ ঘিরে ঢাকা মহনগরে চার স্তরের নিরাপত্তা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও আবাসিক এলাকায় জোরদার করা হয় টহল কার্যক্রম। দিন-রাত পালাক্রমে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। 

পুলিশ সূত্র জানায়, ফাঁকা বাসাবাড়িকে কেন্দ্র করে চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে।  আবাসিক এলাকার নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক রাখা হয়েছে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে। বাসিন্দাদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ চলমান।   

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, সারা দেশে একযোগে টহল ও অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনে বিশেষ টিম সক্রিয় রাখা হয়েছে। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, ঈদের সময় বাসা ফাঁকা রেখে যাওয়া নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদে রাখা, সিসিটিভি সচল রাখা এবং প্রতিবেশীদের মাধ্যমে বাসার খোঁজ রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়।

মিরপুর সেনপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রফিক সাহেবের সঙ্গে কথা হয় সেনপাড়া জামে মসজিদের পাশে। ভিওডিবাংলাকে বলেন, ‘এখানে পুলিশ দৈনিক দুই-তিনবার রাউন্ড দেয়, রাতে বেশি টহল দেয়। ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাসহ আমাদের অনেক প্রতিবেশী ঈদে গ্রামের বাড়িতে গেছেন। দারোয়ান সার্বক্ষণিক ডিউটি করছে। আমাদের এখানে কোনো সমস্যা নেই।

আরেক বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বলেন, সার্বিকভাবে ৭০–৮০% নিরাপত্তা রয়েছে। এলাকায় কিছু ছিন্নমূল মানুষ দেখা যায়, যাদের আমরা চিনি না। হঠাৎ দেখি তারা রাতে বের হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করে।

‘আমাদের যখন সমস্যা হয়, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাওয়া যায় না। সমস্যা শেষ হলে তারা আসে। ৯৯৯-এ সেবা আমরা পাই, তবে এখানে এর অপব্যবহারও হয়-এদিকে খেয়াল রাখা উচিত।'

সেখানে দাঁড়িয়ে এ আলাপ শুনছিলেন আরেকজন জ্যেষ্ঠ নাগরিক। বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি ভালো। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যদি বাড়ানো যায়, তাহলে আরও ভালো হয়। 

রাজধানীর বিভিণ্ন পয়েন্টে দায়িত্বরত অবস্থায় কথা হয় বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে। তারা বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে রাজধানীতে শঙ্কাহীন পরিবেশে ঈদ উদযাপন সম্ভব হচ্ছে। পুলিশ প্রধান, ডিএমপি প্রধানের কঠোর নির্দেশনা ছিলো যে, কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালনে উদাসীন প্রমাণিত হলে চাকরি হারাতে হবে।

ভিওডি বাংলা/আরআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফুটপাত থেকে অপরাধ জগতে
‘বার্গার বাবু’র উত্থান ফুটপাত থেকে অপরাধ জগতে
সলিমপুর অভিযানে কী ব্যবহার করেছিল আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী
সলিমপুর অভিযানে কী ব্যবহার করেছিল আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী
ফ্যামিলি কার্ডে আশা দেখছেন বস্তির পরিবারগুলো
ফ্যামিলি কার্ডে আশা দেখছেন বস্তির পরিবারগুলো