বিরোধী দলীয় নেতার টেবিলে ভারত-পাকিস্তান, যায়নি চীন-যুক্তরাষ্ট্র

সরকারি বাসভবনে কূটনীতিকদের সঙ্গে দেড় ঘন্টার বেশি সময় ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে ইরান, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের আসতে দেখা যায়। এক টেবিলে ছিলেন অনবরত দীর্ঘ শত্রুতার ইতিহাস লিখে যাওয়া দুটি দেশ- ভারত ও পাকিস্তানের হাই কমিশনার, প্রণয় ভার্মা ও ইমরান হায়দার। তাদের দুজনকে কোনো অনুষ্ঠানে সহসা এক টেবিলে বা পাশাপাশি বসতে দেখা যায়নি সচরাচর।
পরে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রণয় ভার্মা এ ঘনিষ্ঠতার ব্যাখ্যা দেন তার ঈদ অনুভূতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে। উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, “সবাইকে ঈদ মোবারক। আমাদের দুই দেশের জনগণকে আরো ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করব।”
এদিকে গত সপ্তাহে জামায়াতের একটি অনুষ্ঠানে ‘ফুডপ্যাক বিতরণ’ ঘিরে বিতর্ক উঠলে চীন দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয় গণমাধ্যমে। এ ঘটনার পর কূটনীতিকদের নিয়ে জামায়াত প্রধানের প্রথম অনুষ্ঠান ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়। এমন গুরুত্বপূর্ণ কুটনৈতিক সভায় চীনের অনুপস্থিতি আলোচনার জন্ম দিবেই, এ অভিমত বিশ্ব রাজনীতির বিশ্লেষকদের।
এছাড়া, জামায়াতের সাম্প্রতিক চীন ঘনিষ্ঠতা, প্রকাশ্যে চীনকে প্রশংসায় ভাসিয়ে দেওয়া, মার্কিন রাজার প্রশংসায় একটি শব্দও ব্যবহার না করাসহ ছোটখাটো কিছু বিরোধ জামায়াত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আরো দূরে সরে যাওয়ার ঈঙ্গিত কি না- তা স্পষ্ট হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এমন বিশ্লেষণ তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে মার্কিনবিরোধী শক্তি চীনকে খুব কাছে নেয়াকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্বাভাবিক চোখে দেখবে না। এসব কারণে মার্কিন প্রতিনিধির অনুপস্থিতি অস্বাভাবিক।
ঈদশুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, স্পেনের রাষ্ট্রদূত হলেন গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হলেন ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রদূত হারিস বিন হাজি ওসমান, অস্ট্রেলিয়ার হাই কমিশনার সুজান রাইল, ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি, শ্রীলঙ্কার হাই কমিশনার ধর্মপাল উইরাক্কোডি, নেপালের রাষ্ট্রদূত জ্ঞানশ্যাম ভান্ডারি, ব্রিটিশ হাই কমিশনার হলেন সারাহ কুক, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
বেলা ১টার দিকে কূটনীতিকদের সঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতার ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষ হয়।
ভিওডি বাংলা/আরআর







