• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ঈদের মোনাজাতে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২১ মার্চ ২০২৬, ১২:৫০ পি.এম.
ঈদের নামাজের মোনাজাতে ছিল যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান-ছবি-ভিওডি বাংলা

বছর ঘুরে আবার এলো মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের ঈদ উৎসব এবার বিষাদে রুপ নিয়েছে। তাই ঈদের নামাজের মোনাজাতে ছিল যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান। শুক্রবার (২০ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়।

শনিবার (২১ মার্চ) বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে। সকালে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও প্রধান মসজিদগুলো ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহে।  ঈদের নামাজের মোনাজাতে ছিল যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান

সকাল সাড়ে আটটার এই জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। নামাজ শেষে খুতবার পর মোনাজাতে হাত তোলেন সবাই।

ইমাম আবদুল মালেক দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি কামনা করেন। পাশাপাশি সারা বিশ্বে ফিতনা-ফ্যাসাদ বন্ধের প্রার্থনা তিনি যখন জানান, তখন ‘আমিন-আমিন’ ধ্বনিতে তাতে সমর্থন জানান হাজারো মুসল্লি।

মুফতি আবদুল মালেক মোনাজাতে বলেন, ‘হে আল্লাহ, বিশ্বের ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে মানুষকে হেফাজত করেন। যুদ্ধবিগ্রহ থেকে মানুষকে নিরাপত্তা দেন।’

মোনাজাতে ইমাম মুফতি আবদুল মালেক অসহায় মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে সব মুসলিম দেশের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মজলুমদের জুলুম থেকে হেফাজত করেন। জালিমদের আপনি শায়েস্তা করে দেন আল্লাহ। কত জায়গায় মুসলমানরা মজলুম হয়ে আছে, অসহায়; আপনি তাদের সবচেয়ে উত্তম অভিভাবক। মানুষের মধ্যে আপনি তাদের জন্য অভিভাবক তৈরি করে দেন, প্রতিনিধি তৈরি করে দেন।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে মুসলিম দেশ ইরানে আক্রমণ শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূচনা হয়। পাল্টাপাল্টি হামলায় এখন আক্রান্ত হচ্ছে ওই অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি দেশ। এই দেশগুলোর সবই মুসলিমপ্রধান।

তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ এই অঞ্চলের যুদ্ধের কারণে অস্থির হয়ে উঠেছে বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজার।  যুদ্ধের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এরই মধ্যে অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। যাঁরা এখনো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে রয়েছেন, তাঁরাও আছেন উৎকণ্ঠায়। যুদ্ধের মধ্যে ইরানে আটকে পড়া দেড় শতাধিক বাংলাদেশিকে বিশেষ বিমান পাঠিয়ে ঈদের আগের দিনই বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এই প্রবাসীদের জন্য দেশে থাকা তাঁদের স্বজনদের যেমন উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি তা দেশের প্রবাসী আয় কমানোর ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  সে কারণে ঈদের নামাজেও ছিল তার প্রতিফলন। জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়তে আসা এক ব্যক্তি একটি প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন, যেখানে ছিল যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান।

প্রায় সাড়ে তিন দশক পর ঈদ জামাতে এবার একসঙ্গে দেখা গেল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে। আকাশি রঙের পাঞ্জাবি পরা তারেক রহমান সকাল ৮টা ২০ মিনিটে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আসেন। এর পাঁচ মিনিট পরই আসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পরনে ছিল মেরুন রঙের পাঞ্জাবি। পাশাপাশি বসে ঈদের নামাজ আদায় করেন তাঁরা। নামাজ শেষে কোলাকুলিও করেন। তারেক রহমান নামাজ শেষে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জাতীয় ঈদগাহের জামাতে অংশ নেন।

ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের তল্লাশির মধ্য দিয়ে সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশ করেন। নামাজের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই জাতীয় ঈদগাহ পরিপূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা না পেয়ে রাস্তায় নামাজ আদায় করেন অনেকে।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
যমুনায় সর্বসাধারণের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী
যমুনায় সর্বসাধারণের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী
যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল
যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল
জাতীয় ঈদগাহে ৩৫ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর ঈদ জামাত
জাতীয় ঈদগাহে ৩৫ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর ঈদ জামাত