মাতৃদুগ্ধ পান কেন্দ্রের সামনে ময়লা আবর্জনা

মা ও শিশুদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে পঞ্চগড়ের যুবদল নেতা মো. হায়াতুন আলম একটি অস্থায়ী মাতৃদুগ্ধ পান কেন্দ্র স্থাপন করেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকালে শহরের ব্যস্ততম এলাকা সিনেমাহল সড়কের পঞ্চগড় বাজার ১ নম্বর গলির প্রবেশমুখে কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হয়।
মাত্র ৭ দিন আগে অনেক আশার আলো নিয়ে উদ্বোধন করা হয় এই “মাতৃদুগ্ধ পান কেন্দ্র”। উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত মানবিক-ঈদের কেনাকাটায় আসা মায়েরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে, নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে তাদের শিশুদের স্তন্যপান করাতে পারেন। এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, আধুনিক এবং সচেতন সমাজ গঠনের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই মহৎ উদ্যোগের ঠিক সামনেই এখন চোখে পড়ছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। প্লাস্টিক, খাবারের উচ্ছিষ্ট ও নোংরা বর্জ্যে ভরে গেছে প্রবেশপথ। যেখানে একটি মা তার শিশুকে কোলে নিয়ে প্রবেশ করবেন, সেই স্থানই পরিণত হয়েছে অস্বাস্থ্যকর ও বিব্রতকর পরিবেশে।
প্রশ্ন উঠছে-এটা কি শুধুই অবহেলা, নাকি আমাদের সামাজিক সচেতনতার চরম অভাব?
একটি মাতৃদুগ্ধ পান কেন্দ্র শুধু একটি সেবা নয়, এটি একটি সম্মান-মাতৃত্বের প্রতি, শিশুর প্রতি এবং মানবিকতার প্রতি। অথচ আমরা সেই স্থানটিকেই নোংরা করে দিচ্ছি নিজের হাতেই। এতে যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
এখানে দায় কার? আমরা প্রায়ই অন্যের দোষ খুঁজি, কিন্তু নিজের দায়িত্ব ভুলে যাই। একটি চিপসের প্যাকেট বা পানির বোতল যেখানে-সেখানে ফেলে দিয়ে আমরা বুঝতে পারি না-এই ছোট ছোট কাজগুলোই একটি বড় সমস্যার জন্ম দেয়। একটি সুন্দর উদ্যোগকে ব্যর্থ করে দিতে আমাদের এই অসচেতনতাই যথেষ্ট।
সময় এসেছে নিজেদেরকে প্রশ্ন করার-আমাদের বিবেক আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে?
যে সমাজে একটি শিশুর মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য তৈরি করা স্থানও আমরা পরিষ্কার রাখতে পারি না, সেই সমাজের মানবিকতার মানদণ্ড কোথায়?
এখনই প্রয়োজন সম্মিলিত সচেতনতা। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও এগিয়ে আসা জরুরি। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা, পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা মেনে চলা-এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই পারে বড় পরিবর্তন আনতে।
অন্যথায়, এমন মানবিক উদ্যোগগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে, আর বাস্তবে হারিয়ে যাবে আমাদের উদাসীনতার ভিড়ে।
ভিওডি বাংলা-স্নিগ্ধা খন্দকার/জা







