দিনাজপুরে সাদাসিধে সফরে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয়দের বিস্ময়

“এতদিন টিভিতে, ফোনে দেখেছি। এবার খুব কাছ থেকে বাস্তবে দেখলাম। স্বপ্ন পূরণ হলো আমার। তার পিতাকেও দেখেছিলাম। তখন আব্বার কাঁধে চড়ে এসেছিলাম।” কথাগুলো বলছিলেন কাহারোল উপজেলার রসুলপুর থেকে আগত মো. মজিবুর রহমান।
গতকালও তার বিশ্বাস হয়নি এখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসবেন। পরিচিতদের কাছে বারবার জিজ্ঞেস করেছেন—“সত্যিই তিনি আসবেন তো?”
প্রধানমন্ত্রী আসবেন, কিন্তু এখানে তেমন কোনো প্রস্তুতি নেই—বিশ্বাস হবে কী করে। মজিবুর ভেবেছেন, তারেক রহমান না এসে অন্য কোনো নেতা আসবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানই এলেন।
দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
সোমবার বেলা ১২টা ২৪ মিনিটে কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া এলাকায় উপস্থিত হন। প্রধানমন্ত্রীর গায়ে ছিল ঘিয়ের রঙের টি-শার্ট আর জিন্স প্যান্ট। খুব সাদামাটা। প্রথমে উপস্থিত সকলকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
বেলা ১২টা ২৮ মিনিটে বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো কোদাল দিয়ে মাটি কেটে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় মাথায় ছিল লাল-সবুজের ক্যাপ। এরপর পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে বেলা ১২টা ৩০ মিনিটে খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
একই দিনে দেশব্যাপী ৫৪টি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ঢাকার বাইরে এই সফরটি ছিল একেবারেই সাদামাটা ও আনুষ্ঠানিকতাবিহীন।
সোমবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়কপথে সৈয়দপুর–দশমাইল–কাহারোল রুট ব্যবহার করে দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। সৈয়দপুর থেকে কাহারোল উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৫০–৬০ কিলোমিটার।
মজিবুর রহমান বলেন, এর আগে একবার এখানে রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ এসেছিলেন। তিনি আসার আগের কয়েকদিন থেকে সেনাবাহিনী এলাকা ঘিরে রেখেছিলেন। তিনটি হেলিকপ্টার নিয়ে এসেছিলেন। চারদিকে উৎসব-উৎসব ভাব ছিল। কিন্তু তারেক রহমান এলেন একেবারে সাদাসিধাভাবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুর থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কজুড়ে কোথাও নেতাকর্মীদের স্বাগত তোরণ, ব্যানার বা ফেস্টুন চোখে পড়েনি। সড়কের পাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত উপস্থিতিও ছিল না। পুরো সফরটি সাধারণ আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
প্রধানমন্ত্রী জানান, খালটি প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ। পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৩১ হাজার কৃষক সেচ সুবিধা পাবেন এবং প্রায় ১,২০০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে। এর ফলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। খালটির পানি ব্যবহারের মাধ্যমে বর্তমানে উৎপাদিত ফসলের তুলনায় প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।
সানারপাড় এলাকার বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী ইসমাইল হোসেন বলেন, তাদের এলাকায় এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী এসেছেন এবং সেটিও হেলিকপ্টার ছাড়া। এর আগে দিনাজপুরে বড় নেতারা সাধারণত হেলিকপ্টারে করে আসতেন।
তিনি আরও বলেন, আগে কোনো বড় নেতা এলে এলাকায় ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে ভরে যেত। এবার তেমন কোনো আয়োজন দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষও তুলনামূলকভাবে সহজে অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি যেতে পেরেছেন।
ভিওডি বাংলা/সবুজ/এমএস







