মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল এলাকায় ইকো পার্ক করা হবে: আবদুস সালাম

মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল এলাকাকে দৃষ্টিনন্দন ও বহুমুখী ব্যবহারের জন্য ইকো পার্কে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং সার উৎপাদন সম্ভব হবে। কোরিয়ান একটি কোম্পানির সঙ্গে কথাবার্তা চলছে এবং এগ্রিমেন্ট সম্পন্ন হলে ২০২৬ থেকে প্রকল্পটি কার্যকর হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মাতুয়াইলে ল্যান্ডফিল্ড কম্পোস্ট প্ল্যান্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, রাজধানীর ল্যান্ডফিল এলাকায় আগুন লাগা, দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ রোধে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশাসক বলেন, আমি জানি আপনারা অসুবিধায় আছেন। আপনারা যে ভোগান্তি অনুভব করছেন, সেটি মাথায় রেখেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণকে এইভাবে ভোগান্তি দেওয়া যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি উন্নত করতে আমাদের কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, চিফ কনজারভেন্সি অফিসার ব্রিফ করেছেন যে আগের মতো পরিস্থিতি থাকবে না। ঘনঘন আগুন লাগা ও দুর্গন্ধ ছড়ানো রোধে ময়লার উপরে আচ্ছাদন ও মাটি দেওয়া হয়েছে। কাজের অগ্রগতি প্রায় ৪০% সম্পন্ন হয়েছে। কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগা বন্ধ হবে এবং আশেপাশের পরিবেশ দূষণ রোধ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, ল্যান্ডফিলে স্থায়ীভাবে অগ্নিনির্বাপনের জন্য ১৮১ একর জায়গায় ৪০টি পানির হাইড্রেট স্থাপন এবং পানির লাইনের সংযোগসহ জলাধার নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, হঠাৎ আগুন লাগলে তাৎক্ষণিক নেভানোর জন্য নতুন করে ছয়টি পোর্টেবল পাম্প ক্রয় করা হয়েছে। নিজস্ব পানির গাড়ি, ভারী যন্ত্রপাতি এবং ফায়ার ব্রিগেডের সহায়তায় তাৎক্ষণিক আগুন নেভানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে এই এলাকা বহুমুখীভাবে ব্যবহারযোগ্য করা হবে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, ‘দৈনন্দিন ময়লার মূল্যবান উপাদানগুলো পুনর্ব্যবহার ও রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছি। আপনারা সহযোগিতা করলে আমরা দ্রুত কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারব।’
আগুন লাগার কারণও ব্যাখ্যা করে প্রশাসক বলেন, ‘আগে এখানে মাঝে মাঝে আগুন লাগত। অনেকেই বলতেন, যারা নেশাগ্রস্ত তারা আগুন লাগায়; কেউ কেউ বলতেন বিভিন্ন কারণে। আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি, এখান থেকে যে লিথেন গ্যাস উৎপন্ন হয়, সেখান থেকেই আগুন লাগে। তাই প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’
প্রশাসক জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, সাময়িকভাবে আপনারা অসুবিধায় আছেন। কিছুটা সময় দিন, ইনশাল্লাহ, ভবিষ্যতে এখানে মানুষ নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে বসবাস করতে পারবে এবং এটি একটি আকর্ষণীয় পার্কে রূপান্তরিত হবে।
ভিওডি বাংলা/খতিব/আ







