ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বেঁচে থাকা নিয়ে ট্রাম্পের সংশয়

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
শনিবার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মোজতবা খামেনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এখন পর্যন্ত কেউ তাঁর উপস্থিতির নির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন খবরও শুনছেন যে খামেনি হয়তো আর বেঁচে নেই। আর যদি বেঁচে থাকেন, তবে নিজের দেশের স্বার্থে তাঁর একটি বুদ্ধিমানের কাজ করা উচিত—তা হলো আত্মসমর্পণ করা। তবে খামেনির মৃত্যুর খবরকে তিনি গুজব বলেও উল্লেখ করেন।
ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে তিনি কাউকে সমর্থন করেন কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট নাম বলেননি। তিনি শুধু জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা ওই দেশের ভবিষ্যতের জন্য ভালো নেতৃত্ব দিতে পারেন।
এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কোনো ধরনের চুক্তিতে পৌঁছাতে তিনি এখনো প্রস্তুত নন বলেও জানান ট্রাম্প। তাঁর মতে, ইরান চুক্তি করতে আগ্রহী হলেও বর্তমান শর্তগুলো যথেষ্ট ভালো নয়। তাই এখনই কোনো সমঝোতায় যেতে তিনি রাজি নন।
চুক্তির শর্ত কী হতে পারে—এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে চান না।
সাক্ষাৎকারে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাশিয়ার তেল খাতের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, তিনি চান বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকুক। তবে বর্তমান সংকট শেষ হলে রাশিয়ার ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো আবার কার্যকর করা হবে।
ইরানবিরোধী লড়াইয়ে ইউক্রেনের সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এমন ব্যক্তি নন, যার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য প্রয়োজন।
এর আগে রুশ ড্রোন মোকাবিলায় নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি ড্রোন প্রতিহত করতে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। গত মঙ্গলবার তিনি জানান, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠাচ্ছে ইউক্রেন।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
ভিওডি বাংলা/আ







