জ্বালানি সংকটে এমপিদের বেতন ২৫% কমাচ্ছে পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব ও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পাকিস্তান সরকার ‘যুদ্ধকালীন কৃচ্ছ্রসাধন পরিকল্পনা’ ঘোষণা করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সোমবার রাতে এই পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন। সংবাদটি জানিয়েছে পাকিস্তানি দৈনিক ডন।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, এখন থেকে সব সরকারি অফিস সপ্তাহে চার দিন কাজ করবে। তবে ব্যাংক এই ব্যবস্থার আওতাভুক্ত হবে না। কৃষি ও শিল্প খাত, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবায় এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না।
সেইসাথে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য দেশের স্কুল ও কলেজ বন্ধ থাকবে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম চলবে।
শেহবাজ সরকার সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে যে, তাদের কর্মীর অর্ধেক বাসা থেকে (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) কাজ করবে। তবে এই নিয়মও কৃষি, শিল্প এবং জরুরি পরিষেবা খাতের জন্য প্রযোজ্য নয়।
জরুরি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, আগামী দুই মাসের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ও গণপরিবহন ব্যতীত সব সরকারি ও দাপ্তরিক যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী সব সংসদ সদস্যের বেতন ২৫ শতাংশ হ্রাসের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও, মাসিক আয় ৩,০০,০০০ টাকার বেশি ২০ ও তার বেশি গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তাদের দুই দিনের বেতন কেটে নেওয়া হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের ব্যয়ও ২০ শতাংশ কমানো হবে।
শেহবাজ ঘোষণা করেছেন, কোনো ফেডারেল মন্ত্রী, উপদেষ্টা বা বিশেষ সহকারী আগামী দুই মাস বেতন পাবেন না। এছাড়াও, সকল ফেডারেল ও প্রাদেশিক মন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “পাকিস্তান উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে, সরকার দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।”
ভিওডি বাংলা/এমএস







