মাদারীপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, প্রতিপক্ষের ঘরে আগুন

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘরে ঢুকে হাত বিচ্ছিন্ন করে ওয়াইফাই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে প্রতিপক্ষের বসতঘরে আগুন দিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে রাতভর আগুন দেয়ার এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আধ্যিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামের মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার হাসান মুন্সির বিরোধ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষে জড়ায় দু’পক্ষ। এরই জেরে মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলদারের সমর্থক ও চাচাতো ভাই আলমগীর হাওলাদারের বসতঘরে ঢুকে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সির লোকজন।
এ সময় আলমগীর হাওলাদার নামে একজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়। বাঁধা দেয়ায় নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটও করে হামলাকারীরা। পরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয় আলমগীর হাওলাদারের মরদেহ। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হাসান মুন্সির গ্রুপ জেলা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বসতঘরসহ প্রায় ৩০টি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। করা হয় লুটপাট ও ভাঙচুর।
এ বিষয়ে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান জানান, বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে আগুন ধরিয়ে দেয়ায় নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে, সবচেষ্টা করেও ব্যর্থ হতে হয়। এলাকাবাসী একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও ওপর তেড়ে আসেন। তারপরও দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও বিক্ষুব্ধরা বিভিন্ন এলাকা থেকে একত্রে জড়ো হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। এ ছাড়া আলমগীর হাওলাদার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতেও কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ।
ভিওডি বাংলা-মহিবুল আহসান লিমন/জা







