• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ত্রয়োদশ সংসদ: তরুণ ও নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:৫২ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ দেড় দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। তবে এবারের সংসদ গঠন, সদস্য বিন্যাস এবং কার্যপ্রণালী—সবই রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংসদ গবেষকদের মতে ব্যতিক্রমী।

সংবিধানের বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে অধিবেশন বসাতে হয়। সেই হিসেবেই মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে নতুন সংসদ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এবারের সবচেয়ে বিশেষ দিক হলো এর সদস্য কাঠামো। নির্বাচিত ২৯৬ সংসদ সদস্যের মধ্যে ২২৭ জনই প্রথমবার সংসদে প্রবেশ করছেন, যা মোট সদস্যের প্রায় ৭৬ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ প্রধান দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও প্রথমবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কেএম মহিউদ্দিন বলেন, “প্রথমত এবারের নির্বাচনে যারা নির্বাচিত তাদের ৭৫ শতাংশের বেশি প্রথমবারের মতো সংসদে। তাদের অনেকেরই কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেই। যে কারণে এবারে সংসদে কিছু কিছু ব্যতিক্রমী বিষয়ও দেখা যেতে পারে।”

নতুন সংসদের আরেকটি বিশেষ দিক হলো প্রথম অধিবেশনের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিষয়টি। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এই শূন্যতায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত কেউ বা নবনির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে কাউকে সাময়িকভাবে স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। অধ্যাপক মহিউদ্দিনের মতে, এটি বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

প্রথা অনুযায়ী প্রথম দিনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের সংসদে বিএনপি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব নিশ্চিত করেছে, তবে প্রক্রিয়াটি নিয়ে কিছু ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

এরপর শুরু হবে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা—রাষ্ট্রপতির ভাষণ। সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নতুন সরকারের পরিকল্পনা ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরবেন। অধ্যাপক মহিউদ্দিন বলেন, “অনেক সময় একই দিনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শপথ নেন। তবে এবারে ডেপুটি স্পিকারের শপথ একই দিনে নাও হতে পারে।”

রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হওয়ার পর সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়। নতুন সদস্যরা এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন, যা তাদের সংসদীয় দক্ষতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের প্রথম সুযোগ।

সংসদীয় কার্যপ্রণালীর মূল ভিত্তি হলো ‘কার্যপ্রণালী বিধি’। প্রতিদিনের আলোচনার বিষয়বস্তু বা ‘অর্ডার অব দ্য ডে’ স্পিকার নির্ধারণ করবেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বা আইন পাশের ক্ষেত্রে কণ্ঠভোট এবং বিভক্তি ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন সংসদ সদস্যদের জন্য এই জটিল প্রক্রিয়া আয়ত্তে কিছুটা সময় লাগবে।

তবে তিনি আশাবাদী, যদি সদস্যরা দ্রুত সংসদীয় নিয়ম-কানুন আয়ত্তে আনতে পারেন, নতুন সংসদ আইন প্রণয়নে গুণগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। বিশাল সংখ্যক নতুন মুখ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাওয়া এই সংসদ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

ভিওডি বাংলা/এমএস 


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
দেশে ফিরেছেন দোহায় আটকে থাকা বিমানের ১২ ক্রু
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: দেশে ফিরেছেন দোহায় আটকে থাকা বিমানের ১২ ক্রু
ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে আজও দীর্ঘ লাইন
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব: ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে আজও দীর্ঘ লাইন
সরকারি দলের সংসদীয় সভা আজ
সরকারি দলের সংসদীয় সভা আজ