• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

চীনা অধ্যাপক ও বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী:

তবে কি যুদ্ধে ইরানের কাছে হেরে যাবে যুক্তরাষ্ট্র?

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৭ মার্চ ২০২৬, ১০:১৭ এ.এম.
চীনা অধ্যাপক জুয়েকিন জিয়াং ও রহস্যময় ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা-ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে কয়েকটি ভবিষ্যদ্বাণী। বিশেষ করে ইউটিউব চ্যানেল ‘প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি’-র সঞ্চালক চীনা বংশোদ্ভূত কানাডীয় অধ্যাপক জুয়েকিন জিয়াংয়ের বক্তব্য এবং বুলগেরিয়ার রহস্যময় অন্ধ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গার পুরোনো ভবিষ্যদ্বাণী আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জুয়েকিন জিয়াংয়ের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য তা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা ও আঞ্চলিক প্রভাব বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাবা ভাঙ্গার ২০২৬ সালকে ঘিরে করা একাধিক ভবিষ্যদ্বাণী নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার কিছু ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, ওই বছরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুয়েকিন জিয়াং ২০২৪ সালে একটি অনলাইন লেকচারের সময় কয়েকটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। সেই ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।

তার প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী ছিল-ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ফিরবেন। দ্বিতীয় ভবিষ্যদ্বাণীতে তিনি বলেছিলেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে পারে।

এই দুই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবতার সঙ্গে আংশিকভাবে মিলে যাওয়ায় অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী তাকে রসিকতার ছলে “চীনা জ্যোতিষী” বলেও আখ্যা দিতে শুরু করেছেন। তবে জিয়াং নিজেকে জ্যোতিষী হিসেবে দাবি করেন না। তিনি বরং ইতিহাস, ভূরাজনীতি ও কৌশলগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রবণতা বোঝার চেষ্টা করেন বলে উল্লেখ করেছেন।

জুয়েকিন জিয়াং মূলত দর্শন ও ইতিহাসের একজন অধ্যাপক। তিনি বেইজিংয়ে বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা সংস্কার ও পাঠ্যক্রম উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন। ইয়েল কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা এই শিক্ষাবিদ তার কর্মজীবনের একটি বড় অংশ ব্যয় করেছেন চীনের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা ও নীতি প্রণয়নে।

একই সঙ্গে তিনি ইউটিউবভিত্তিক প্রকল্প ‘প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি’ পরিচালনা করেন, যেখানে ইতিহাসের বিভিন্ন ধারা, ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং গেম থিওরির আলোকে সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতির সম্ভাব্য গতিপথ বিশ্লেষণ করা হয়।

তার মতে, ইতিহাসের অনেক ঘটনা নির্দিষ্ট ধারা অনুসরণ করে পুনরাবৃত্তি ঘটে। সেই ধারাগুলো বিশ্লেষণ করলে ভবিষ্যতের কিছু সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

জিয়াংয়ের বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে বিজ্ঞান কল্পকাহিনি লেখক আইজ্যাক আসিমভের বিখ্যাত উপন্যাস ‘ফাউন্ডেশন’-এর একটি ধারণার প্রভাব রয়েছে। ওই উপন্যাসে ‘সাইকোহিস্ট্রি’ নামে একটি কাল্পনিক পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আচরণ ও ইতিহাসের ধারা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের ঘটনাপ্রবাহ অনুমান করা হয়।

জিয়াং তার লেকচারগুলোতে সেই ধারণার সঙ্গে বাস্তব ইতিহাস, ভূরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণ মিলিয়ে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির সম্ভাব্য দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

২০২৪ সালের মে মাসে দেওয়া এক লেকচারে তিনি বলেন, যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে পারে।

জিয়াংয়ের যুক্তি অনুযায়ী, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিশাল জনসংখ্যা যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতকে জটিল করে তুলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ ও কৌশলগত অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে ইরান আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে দেশটির পর্বতময় ভূপ্রকৃতি ও শক্তিশালী সামরিক কাঠামো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধকে কঠিন করে তুলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সংঘাত কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবেও বিশ্বব্যবস্থাকে বড় ধরনের চাপে ফেলতে পারে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আবারও আলোচনায় এসেছে বুলগেরিয়ার অন্ধ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীগুলো।

‘বালকানের নস্ত্রাদামুস’ নামে পরিচিত এই নারী ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বিংশ শতাব্দীতে ইউরোপে বেশ পরিচিত ছিলেন। তার অনুসারীদের দাবি, অতীতে তিনি প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনসহ বিভিন্ন ঘটনার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

যদিও এসব দাবির অনেকগুলোর সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং অনেক বিশেষজ্ঞই এগুলোকে প্রমাণহীন বলে মনে করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভবিষ্যদ্বাণীগুলো প্রায়ই নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে।

বিভিন্ন ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাবা ভাঙ্গা ২০২৬ সাল নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

এর মধ্যে একটি হলো-বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সংঘাত বাড়তে পারে এবং তা একাধিক মহাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।

কিছু ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়েছে, চীন তাইওয়ানকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করতে পারে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

বাবা ভাঙ্গার আরেকটি আলোচিত ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে ধস, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মান হঠাৎ কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ইতোমধ্যেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই এসব ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

আরেকটি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ওই বছরে রাশিয়ায় নতুন কোনো নেতার উত্থান ঘটতে পারে। এতে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠতে পারে। যদিও এসব বিষয় নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথাও উল্লেখ রয়েছে। তার মতে, ২০২৬ সালে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প, সুনামি, টর্নেডো ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। এসব ঘটনার ফলে বহু দেশ পরিবেশগত ও মানবিক সংকটে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।

বাবা ভাঙ্গা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করা হয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের জীবনযাত্রা ও শিল্পক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ঘটছে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে মানুষের কাজ, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর এআইয়ের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

সবচেয়ে বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর একটি হলো-২০২৬ সালের নভেম্বরে মানুষের সঙ্গে ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর প্রথম যোগাযোগ ঘটতে পারে। কিছু ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ওই সময় একটি বিশাল মহাকাশযান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এই ধরনের দাবিকে এখনো সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত বলেই মনে করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসে অনেক সময় ভবিষ্যদ্বাণী বা অনুমান বাস্তব ঘটনার সঙ্গে মিলে যায় বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সেগুলোকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা সব সময় সম্ভব হয় না। তবুও বিশ্ব রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মানুষের কৌতূহল থেকেই এসব ভবিষ্যদ্বাণী প্রায়ই নতুন করে আলোচনায় আসে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
জাতিসংঘ সভাপতির পদে জন্য সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সভাপতির পদে জন্য সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সাংবাদিকদের ইতিবাচক সমালোচনা ও সহযোগিতা চান ডিএসসিসি প্রশাসক
সাংবাদিকদের ইতিবাচক সমালোচনা ও সহযোগিতা চান ডিএসসিসি প্রশাসক
তেল কেনার সীমা বেঁধে দিয়েছে সরকার
তেল কেনার সীমা বেঁধে দিয়েছে সরকার